5e368ec7de661

জীবন সবসময় সহজ হয়ে চলেনা। উঁচু-নিচুর মধ্য দিয়েই যেতে হয় সকলকে। এ পথ পার করা একার পক্ষে সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা, সম্ভব হলেও তা হয় খুব কষ্টের। তাই আমাদের জীবনে বন্ধুদের গুরুত্ব অনেক। একাকীত্ব ও জীবনের বেদনার ফলে নেমে আসে ডিপ্রেশন। ডিপ্রেশনের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অনেকে বেছে নেয় মৃত্যুকে।“বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু” এ কথাটি আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। কথাটি সম্পূর্ণ খাঁটি। তাই বন্ধু হিসেবে সর্বদাই একে অপরকে সাহায্য করা কাম্য , দায়িত্ব বললেও ভুল হবেনা। আমরা কখনোই চাই না আমাদের বন্ধুকে হারাতে। দীর্ঘ জীবন ও অজস্র আনন্দের মুহুর্ত কাটাতে চাই আমরা আমাদের বন্ধুদের সাথে।  কিন্তু তাদের কষ্টের সময়ও তাদের পাশে দাড়ানো আমাদের কর্তব্য। বন্ধু ডিপ্রেশনে ভুগলে তার পাশে থাকলে সে তা কাটিয়ে উঠতে পারবে, পারবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে। তবে এর আগে আমাদের জেনে নেয়া দরকার আমরা কীভাবে বুঝতে পারবো যে আমাদের বন্ধু ডিপ্রেশনে ভুগছে।

ডিপ্রেশন ও ডিপ্রেশড বন্ধুঃ ডিপ্রেশন একটি রোগ  বা ডিসোর্ডার বলে অভিহিত করা হয়। ডিপ্রেশন একটি রোগ যা একজন ব্যক্তির হৃদয়ে দুঃখের জন্ম দেয় এবং তা সবসময় জাগ্রত রাখে। ধীরে ধীরে তার পচ্ছন্দের কাজ, শখ ,  ইত্যাদির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মূলত তীব্র মানসিক যন্রনা সহ্য করতে হয়।
যদি কোনো ব্যক্তি ডিপ্রেশনে ভোগে তাহলে তা তাকে দেখে বোঝা যায়। যেমনঃ অধিকাংশ সময় অন্যমনস্ক থাকে। সাধারণত ডিপ্রেশড কোনো ব্যক্তি তার ডিপ্রেশন সম্পর্কে কাউকে বলতে চায়না। অনেকে আবার বুঝতে পারে না যে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে। তাই বন্ধু হিসেবে খেয়াল করা প্রয়োজন বন্ধুর মানসিক অবস্থা। তার জন্য সর্বদা বন্ধুদের খোঁজ-খবর নেয়া আমাদের উচিৎ। কোনো বন্ধুকে ডিপ্রেসড মনে হলে বন্ধুটির মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে। যদিও সে ব্যাপারটি লুকানোর চেষ্টা করবে, তবু তার সাথে কথা বলে তাকে বুঝতে হবে। জানতে হবে সে ডিপ্রেশনে ভুগছে কিনা। যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার বন্ধুটি ডিপ্রেশড কিনাঃ-

 

  • মন খারাপ ও অন্যমনস্কতাঃ  মন খারাপ ও অন্যমনস্ক থাকা ডিপ্রেশনের বড় একটি লক্ষণ। তবে দুশ্চিন্তা কিংবা দিন খারাপ গেলেও এরকম হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক দিন ধরে এরকম চলতে থাকলে ব্যাপারটি লক্ষ করা দরকার।
  • খাদ্যে অনীহাঃ  সাধারণত একজন ডিপ্রশড ব্যক্তির ক্ষুধা কম লাগে কিংবা ক্ষুধা লাগেনা। তাই খাবার পরিহার করে থাকে অধিকাংশ সময়ে। যার ফলে ওজন হ্রাস ও স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে।
  • অনিদ্রা ও অতিনিদ্রাঃ  ডিপ্রেশনের ফলে একজন ব্যক্তি ঘুমাতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে অধিকাংশ সময় দুর্বল অনুভব করে তারা। কেননা প্রতিদিনই ঠিক মতো ঘুমাতে না পারার কারণে দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মাংসপেশী পুনরায় কাজের উপযোগী হয়ে ওঠেনা।
  • একা থাকা ও নিরবতাঃ  অনেক লোক আছেন যারা স্বাভাবিকভাবেই চুপচাপ এবং একা থাকতে পচ্ছন্দ করেন। কিন্তু অনেকেই এর বিপরীত। সদা মিশুক ও রসিক মানুষও যদি হঠাৎ করে নিশ্চুপ হয়ে যায় তবে তা ভেবে দেখার বিষয়।

এসকল বৈশিষ্ট্য আপনার বন্ধুর মধ্যে দেখতে পেলেই যে সে ডিপ্রেশড, তা কিন্তু নয়। তবে আপনার বন্ধু ডিপ্রেশড হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আপনি যদি মনে করেন আপনার বন্ধুটি ডিপ্রেশনে ভুগছে তাহলে অবশ্যই মানসিক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ডাক্তার এটি সনাক্ত করতে পারবেন।

ডাক্তারগণ সাধারণত ডিপ্রেশড ব্যক্তিকে অ্যান্টি ডিপ্রেশেন্ট ঔষধ সেবন করতে পারে যাতে রোগীর ডিপ্রেশন সাময়িক লাঘব হয় এবং আত্মহত্তার মতো চিন্তা না করতে পারে। যদিও তা একটি সাময়িক সমাধান। রোগীর কাছের লোকদের সহায়তায় রোগী সম্পূর্ণ স্বুস্থ্য হতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে রোগীর বন্ধুদের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যেসকল ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সর্বনিম্ন একজন সক্রিয় বন্ধু ছিল, তাদের মধ্যে অধিকাংশই দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছেন। সক্রিয় বন্ধু বলতে বোঝানো হয়েছে যারা বা যিনি ডিপ্রেশড ব্যক্তির বন্ধু এবং তাকে সময় দিয়েছে ও ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছেন।  তাহলে আমরা বুঝতে পারি একজন ডিপ্রেশড ব্যক্তির জন্য একটি বন্ধু কত গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধু হিসেবে আমাদেরও উচিৎ ডিপ্রেশড বন্ধুর পাশে থাকা। এর ফলে সে দ্রুত স্বুস্থ্য হয়ে উঠতে পারবে। আমাদের জানা উচিৎ কীভাবে আমরা আমাদের ডিপ্রেশড বন্ধুকে সাহায্য করতে পারি। ডিপ্রেশড বন্ধুর প্রতি আমাদের করণীয়ঃ-

 

  • ডিপ্রেশড বন্ধুকে সময় দেয়াঃ  ডিপ্রেশনের সময় রোগীকে সময় দেয়ার চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা। ডিপ্রেশড ব্যক্তি নিজেকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হন। তাই তার মানসিক সাহায্যের প্রয়োজন হয় অনেক।  বন্ধুকে সময় দেয়ার মাধ্যমে তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। তার সাথে বন্ধুটি ডিপ্রেশনের কবল থেকে রেহাই পেতে পারে।
  • বন্ধুর মানসিক স্বাস্থ্য জানাঃ  মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা আমাদের প্রয়োজন। ডিপ্রেশড ব্যক্তির ঘন ঘন মুড সুইং হয়ে থাকে। বিভিন্ন ঔষধের প্রভাবেই মূলত এটি হয়ে থাকে। মুড সুইং এর কারণে হঠাৎ রেগে যেতে পারে বন্ধুটি। তাই তার মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তার সাথে কথা বলতে হবে। কমল হৃদয়ের হয়ে থাকে এরা, বিধায় কোনো মতেই মানসিক চাপ কিংবা আঘাত দেয়া যাবেনা।
  • আত্মহত্যা ও আত্মক্ষতির প্রবণতাঃ  ডিপ্রেশড ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মহত্যা ও আত্মক্ষতির প্রবণতা দেখা যায়। তাদের সাথে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে ডাক্তাররা বলেছেনে যে তারা মূলত কষ্ট লাঘব কিংবা কষ্ট থেকে মক্তি পেতে এ পথ বেছে নেয়। আমরা আমাদের বন্ধুদের ক্ষতি কখনোই চায়না। তাই সবসময় তাদের কাছে কাছে থাকাই শ্রেয়।

তাছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায় বন্ধুর যত্ন নিতে হবে। বন্ধু যেন আমাদের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার আগ্রহ রাখতে পারে। আমরা বন্ধুর পাশে থেকে তাকে সর্বদা সাহায্য করবো যেন সে স্বুস্থ্য হয়ে উঠতে পারে। তার নিজের চেয়ে আমাদের আগ্রহ বেশি থাকা প্রয়োজন। তাহলে সে আমাদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে স্বুস্থ্য হয়ে উঠতে পারবে। তা করতে পারলেই আর হারাতে হবেনা কোনো বন্ধুকে অকালে। বন্ধুত্বের দৃঢ়তায়েই পরাজয় হবে ডিপ্রেশনের।

Justin Matthias

BY:

[email protected]

Open minded, Passionate, Self Confident. A strong will to achieve anything .Web content writer and football lover. Guitar and chess are also my interests. Spreading love to the world through...

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *