best-rideshare-bike-in-Bangladesh-37wm82ahi7faukb4ab8umi

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিবহন ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। স্বাধীনতার পর থেকে এদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে দ্রুত গতিতে। আর তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ভুমি, জলপথ এবং আকাশ পথে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন রকম যোগাযোগ ব্যবস্থা।   

পরিবহন খাতে উন্নয়ন যেমন হয়েছে দ্রুত গতিতে সেরকম বৃদ্ধি পেয়েছে যানবাহনের আধিক্য। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মালবাহী ট্রাক যাচ্ছে এক শহর থেকে অন্য শহরে, অথবা আসছে গ্রাম থেকে শহরে, এছাড়াও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে এক শহর থেকে অন্য শহরে, কেউবা ভাগ্যের সন্ধানে আসছে গ্রাম থেকে শহরে, কেউবা আবার প্রিয়জনদের সাথে দেখা করার জন্য পাড়ি দিচ্ছে শহর থেকে গ্রামে। যানবাহনের এই আধিক্যের কারনে বৃদ্ধি পেয়েছে যানজট। আর এই অতিরিক্ত যানজটের কারনে সড়ক পথে কোলাহল দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাস, ট্রাক, সিএনজি, রিকশা, সাইকেল, মোটর সাইকেল প্রাইভেট কারের সংখ্যা যেমন বেড়ে চলছে সেরকম যানজট বেড়েই চলছে দিনকে দিন। অফিস বা স্কুল ছুটির সময় বাস পাওয়া রীতিমত ভাগ্যের ব্যাপার যদিও বা বাস পাওয়া যায় মানুষের ভিড়ে সেখানে টিকে থাকা হয়ে উঠে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার, আর সেসময় রিকশা বা সিএনজির ভাড়া হয়ে যায় দ্বিগুণ। এ সময় সাধারন মানুষের ভোগান্তির কোন শেষ থাকেনা। ঠেলাঠেলি করে ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত মেয়েদের জন্য আরও বেশি কষ্টকর, অনেক সময় তাদের হয়রানির স্বীকার হতে হয়।  

Photo by Rehman Asad/NurPhoto via Getty Images

 

বাস, সিএনজি, রিকশার যানজটে মানুষের ঠেলাঠেলি,ভিড়ে জীবন যখন কুন্ঠাগত, এসময় আশীর্বাদ স্বরূপ আবির্ভাব হয় রাইড শেয়ারিং এর ধারণা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুব সহজেই এই সেবা পাওয়া যায় বলে রাইড শেয়ারিং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। রাইড শেয়ারিং বাংলাদেশে শুরু হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি, কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশে বেশ কয়েকবছর ধরেই রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চল গুলোতে ট্যাক্সি সার্ভিসের মত মোটর সাইকেল দিয়ে যাত্রী একস্থান থেকে অন্য স্থানে আনা নেওয়া করা হত, তবে মোবাইল অ্যাপ দিয়ে মোটর সাইকেল রাইড শেয়ারিং এর ব্যবস্থা বাংলাদেশেই প্রথম চালু হয়।    

গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এখন আর বাস, সিএনজি, বা রিকশার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়না। গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এখন কেবল যেকোনো রাইড শেয়ারিং কোম্পানিকে মোবাইল ফোনের অ্যাপস এর মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়ে অনুরোধ করলেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত মোটরবাইক, সিএনজি-অটোরিকশা বা গাড়ি পোঁছে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন কোম্পানি রাইড শেয়ারিং পরিষেবা দিচ্ছেঃ 

উবারঃ উবার এই মুহুর্তে বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানি। কেবল মাত্র বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের ৬৩টি দেশ এবং ৭৮০ টিরও বেশি শহরে এর ব্যবহার রয়েছে। উবারের মাধ্যমে শুধু মাত্র যাত্রী পরিবহন ছাড়াও এর সাহায্যে খুব সহজেই ঘরে বসেই খাবার অর্ডার করা যায়।  পাঠাওঃ পাঠাও বাংলাদেশের আরেকটি জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানি। বর্তমানে তারা পরিষেবা দিচ্ছে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামে। কেবল পরিবহনই নয় তারা খাদ্য সরবরাহ ও পণ্য সরবরাহ পরিষেবাটিও দিচ্ছে।

Source: pathao

সহজঃ সহজ হল বাংলাদেশের শীর্ষ স্তরের একটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি। বর্তমানে, তারা কেবল ঢাকা শহরেই তাদের পরিষেবাটি সীমিত রেখেছে। পরিবহন ছাড়াও এর সাহায্যে অভিনব কিছু পরিষেবা পাওয়া যায়-ঘরে বসেই খাবার অর্ডার করা যায় এবং খুব সহজেই বাস, লঞ্চ এবং মুভির জন্য টিকিটও কাটা যায়।   

Source : Sohoz

 ও ভাইঃ ও ভাই বাংলাদেশের আরও একটি শীর্ষ স্তরের একটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি যা ‘ও ভাই সল্যুশনস লিমিটেড’ এর অন্তর্গত। ও ভাই রাইড শেয়ারিং কোম্পানি সিএনজি অটোরিকশা বা বাইক, সবই কভার করেছে যেগুলো কিনা তা মানুষের দৈনিক যাতায়াতের জন্যপ্রয়োজন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এসব অ্যাপের যারা মোটর সাইকেল রাইডার থাকেন তারা পুরুষ, বিধায় অনেক নারী যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। আর তাই ‘ও ভাই সল্যুশনস লিমিটেড’ তাদের ও ভাই রাইড শেয়ারিং অ্যাপসে শুধুমাত্র নারীদের জন্য নিয়ে এসেছেন ‘ও বোন’ অপশন। এখন নারী যাত্রীরা সহজেই এই অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের কাক্ষিত গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছতে পারবেন।

Source : Obhai

পিকমিঃ পিকমি বাংলাদেশের আরও একটি একটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ। ওমর আলী রাজ নামে একজন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা পরিচালিত অ্যাপটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে চালু হয়। বর্তমানে এই কোম্পানিটি শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তাদের পরিষেবাটি সীমিত রেখেছে।

Source : Facebook/Pickme

আজকাল রাইড-শেয়ারিং কোম্পানি গুলি বাংলাদেশের পরিবহন শিল্পকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে। এর কারনে যানজট ও পার্কিংয়ের চাহিদা হ্রাস হয়েছে। এর কারনে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। রাইড শেয়ারিং এর আরও অনেক সুবিধা রয়েছেঃ 

সময় সাশ্রয়ঃ রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলোর কারনে এখন আর মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছানোর  জন্য বাস, সিএনজি, বা রিকশার জন্য আর অপেক্ষা করতে হয়না। এখন গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য মোবাইল ফোনের অ্যাপসে একটি ক্লিকই যথেষ্ট, কয়েক মিনিটেই পৌঁছে যাবে কাঙ্ক্ষিত রাইডটি, ফলে মানুষের সময় সাশ্রয় হচ্ছে এবং তারা বাড়ি ফিরতে পারছে দ্রুত। পছন্দের খাবার অর্ডার করার জন্যও এখন রেস্তোরাঁতে যাওয়ার দরকার পরছে না। ঘরে বসে অনায়েসেই পাওয়া যায় পছন্দের খাবার।  

ব্যয় সাশ্রয়ঃ স্কুল, কলেজ ছুটি হওয়ার পর কিংবা অফিস শেষ হওয়ার প্রচণ্ড ভিড়ে বেশির ভাগ মানুষই বাসে উঠতে পারেনা, ফলে তাদের যেতে হয় রিকশা বা সিএনজিতে। রিকশা কিংবা সিএনজি চালকরা এসময় আদায় করে নেয়  দ্বিগুণ ভাড়া। কিন্তু রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলোর কারনে এখন মানুষ ন্যায্য ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে।  

উদ্বেগ হ্রাসঃ রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলোর জন্য মানুষের জীবনযাত্রা হয়েছে সহজ। এখন আর আগের মত বাস, সিএনজি, বা রিকশার জন্য অপেক্ষা করতে হয়না। ফলে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানর জন্য মানুষকে এখন আর চিন্তা করতে হয়না।   

বেকারত্ব দূরীকরণঃ দেশের বেকারত্ব কমানোর জন্য রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একটি লাইসেন্স সহ মোটর সাইকেল কিংবা গাড়ি থাকলে সহজেই যে কেউ রাইডার হিসেবে কাজ করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের বেশির ভাগ বেকার যুবক, যুবতীরা ঘরে বসে না থেকে রাইডার হিসেবে কাজ করছে রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলোতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীই এখন পার্ট টাইম চাকরি হিসেবে রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলোতে রাইডার হিসেবে কাজ করছে।

রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছানো কিংবা  পছন্দের খাবার ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারার জন্য রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলোর রাইডারদের মধ্যে বেশ কিছু সমস্যাও দেখা দিয়েছে, এছাড়াও বাড়ছে নিরাপত্তা জনিত সমস্যাঃ  

চুক্তিতে চলাচলঃ অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে জায়গা দখল করে নেয়। সেই সুযোগে বেশি লাভের আশায় রাইডাররা রাস্তার মোরে মোরে চুক্তিতে যাত্রী বহনের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। ফলে যে উদেশ্যে অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা চালু হয়েছিল তা বিফলে যাচ্ছে। কারন অ্যাপের ব্যবহার না করে চুক্তিতে যাত্রী বহন করলে তা সাধারন সিএনজি, বা রিকশায় চলাচলের মতই ব্যাপার, যা কিনা আমাদেরকে আবার পূর্বের অবস্থাতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। 

ছিনতাইঃ  অ্যাপ ব্যবহার না করে চুক্তিতে যাত্রী বহনের ফলে রাইডদের ঝুঁকি বাড়ছে। অ্যাপ ব্যবহার না করার ফলে যাত্রীর নম্বর সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, যাত্রী সেজে সহজেই চালকের জিনসপত্র ছিনতাই করছে ছিনতাইকারীরা; ফলে চালকরা স্বীকার হচ্ছেন দুর্ঘটনার। কিছুদিন আগেও যাত্রীবেশি এক ছিনতাইকারী পাঠাও চালককে মেরে ফেলে তার মোবাইল এবং মোটর সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

দুঘর্টনার ঝুঁকিঃ যাচাই-বাছাই না করেই শুধুমাত্র লাইসেন্স সহ মোটর সাইকেল কিংবা গাড়ি থাকলে সহজেই যে কেউ রাইডার হিসেবে কাজ করতে পারে, এক্ষেত্রে নেওয়া হয়না কোন ড্রাইভিং পরীক্ষা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বেকারত্বের অবসান ঘটানর জন্য বন্ধুবান্ধবের মোটর সাইকেল কিংবা প্রাইভেট কার মাত্র ১০-১৫ দিন চালিয়েই রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোর ফুল টাইম রাইডার হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। অনেকে আবার গ্রাম অঞ্চলের ফাকা রাস্তায় মোটর সাইকেল কিংবা গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফুল টাইম কিংবা পার্ট টাইম রাইডার হিসেবে যোগ দিয়ে শহরের ব্যস্ততম রাস্তায় মোটর সাইকেল কিংবা গাড়ি চালাচ্ছেন। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই শহরের রাস্তাঘাট ঠিক মত চিনেননা। অদক্ষ এসব চালকদের জন্য  প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। 

রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলোর জন্য দেশের পরিবহন ব্যবস্থার অনেক উন্নতি ঘটেছে, মানুষের সময় সাশ্রয় হচ্ছে এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবে রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলোকেও সতর্কতার সাথে রাইডার নির্বাচন করা করা উচিত, রাইডাররা যাতে অ্যাপ ছাড়া চুক্তিতে যাত্রী বহন করতে না পারে; যাত্রী এবং রাইডারদের নিরাপত্তার স্বার্থে তা নিশ্চিত করা উচিত। তবেই রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গুলোর প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। 

 

Sanjana Haque

BY:

[email protected]

Sanjana Haque Sheza is a content writer who work out for MarronVoid online news portal. Currently she is doing her BBA from Bangladesh University of Professionals in Accounting department....

2 Comment

  1. Does your blog have a contact page? I’m having trouble locating it but,
    I’d like to shoot you an e-mail. I’ve got some suggestions for your blog you might be interested
    in hearing. Either way, great website and I look forward to seeing it grow over time. http://detective-zakynthinos.net/

  2. Does your blog have a contact page? I’m having trouble
    locating it but, I’d like to shoot you an e-mail.
    I’ve got some suggestions for your blog you might be interested in hearing.
    Either way, great website and I look forward to seeing it grow over
    time. http://detective-zakynthinos.net/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *