5e399c287a12d

গ্রাম থেকে শুরু করে উন্নত মানের শহরের যেকোনো জায়গায় পেয়ে যাবেন সবার প্রিয় এই ফাস্ট ফুড। ছোট থেকে সবার প্রিয় খাবার হচ্ছে ফাস্টফুড।উইকিপিডিয়া এর মতে ফাস্টফুড বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ভাগে উদ্ভাবিত একটি শব্দবন্ধ যা দিয়ে সে সকল খাবারকে বোঝানো হয় যেগুলো খুব তাড়াতাড়ি তৈরি ও পরিবেশন করা যায়। যে কোন খাবার যেটি তৈরিতে অল্প সময় লাগে তা ফাস্ট ফুড হিসেবে গণ্য হতে পারে, কিন্তু সচারচর ফাস্ট ফুড বলতে সেই খাবারগুলোকে বোঝানো হয় যা মূলত হোটেল-রেস্তোরাঁতে বিক্রি করা হয়। ১৯৫১ সালে ইংরেজি মরিয়াম-ওয়েবস্টার অভিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে fast food (ফাস্ট ফুড) শব্দটি প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে ক্রেতা চাহিবামাত্র পরিবেশন করা হয়।  এইত জানলাম ফাস্টফুড সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা মাত্র।

আচ্ছা ফাস্ট ফুডগুলো কি কি হতে পারে?

উপরেই উল্লেখ করেছিলাম যে, যেই  খাবারগুলো দ্রুত পরিবেশন করা মূলত সেগুলোকে ফাস্টফুড বলছি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়ঃ

১. বার্গার: বার্গার এর উৎপত্তিস্থল অনিশ্চিত তবে জার্মানি অথবা যুক্তরাষ্ট্র হতে পারে।বার্গার  হচ্ছে একপ্রকার স্যান্ডউইচ সদৃশ খাবার যা দুটি রুটির মধ্যে রান্না করা কিমা মাংস দিয়ে তৈরি করা হয়।  বাংলাদেশে বার্গারে মাংস হিসেবে প্রধানত ব্যবহৃত হয় মুরগী ও গরুর মাংস। বার্গারের রুটি বা বান তৈরিতে প্রধানত গমের আটা ব্যবহৃত হয়। এছাড়া রুটি হিসেবে বানের বদলে সাধারণ দু প্রস্থ পাউরুটির ব্যবহারও স্বীকৃত। হ্যামবার্গার তৈরি ও পরিবেশনে প্রায়ই সময়ই যে উপাদানগুলো ব্যবহৃত হয় তা হচ্ছে, লেটুস, টমেটো, পেঁয়াজ, শসা, পনির, এবং সস, যেমন: মাস্টার্ড, মেয়নেজ, এবং টমেটো কেচাপ। এই তিন ধরনের সস এবং অন্যান্য উপকরণ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ ক্রেতার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।বিভিন্ন স্বাদের বার্গার বর্তমানে পাওয়া যায়।

২. চাওমিন (নুডলস): চাউমিন শব্দটি তাইশানীজ শব্দ চাউ-মেইং এর রোমানাইজেশন রূপ। আর নুডলস একধরনের খাবার যা ঝটপট খাবার (ইন্সট্যান্ট ফুড) হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। নুডলসের উৎস নিয়ে কিছু মতভেদ থাকলে অধিকাংশ মত অনুযায়ী এটা চীনদেশীয় খাবার বা চীনাদের আবিষ্কার। ময়দার তাল থেকে বিভিন্ন ধরনের নুডলস তৈরী করা হয়ে থাকে। লম্বা, সরু সুতার মত দেখতে নুডলসই বেশি দেখা যায়। তবে এটা ঢেউ খেলানো, নলাকার, খোলসাকার, ভাজ করা ইত্যাদি বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। নুডলস সাধারণত ফুটন্ত পানিতে রান্না করা হয়। অনেকসময় রান্নার তেল ও লবন ব্যবহার করা হয়। এদেরকে প্রায়শই কড়া ভাজা করা হয়। চাটনির দিয়ে নুডলস পরিবেশন করা হয়। অল্প সময় সংরক্ষণের জন্য নুডলস রেফ্রিজারেটরে রাখা হয়। নুডলস শব্দটি জার্মান শব্দ নুডেল থেকে এসেছে।চাউমিন চীনা পরিমন্ডলে খুবই জনপ্রিয় এবং চীনা রেস্তোরার মেন্যুতে একটি আবশ্যিক পদ।

৩. ফ্রেন্স ফ্রাই: ১৮০১ সালে থমাস জেফারসন ফরাসি বাবুর্চি অনারে জুলিয়েনের সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি আলু ভেজে এক প্রকার খাদ্য তৈরি করেন। এর রেসিপি ছিল এমন, প্রথমে ছোট করে কাটা আলু লবণে ডুবিয়ে নরম করে নিতে হবে। তারপর কাটা আলু ডুবো তেলে ভাজতে হবে। সেই থেকে এর নাম ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’ হয়েছে বলে অনেকে ধারণা করেন।

৪. পিজ্জা: ইটালি কে পিজ্জার জন্মস্থান বলা হলেও তা আমেরিকা তে সর্বপ্রথম এসেছিল। জেনারো লম্বার্দি ইটালির একজন অভিবাসী ছিলেন। তিনি নেপলস এর বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ১৯০৫ সালে নিউ ইয়র্ক এ ইমিগ্রেন্ট হয়ে এসেছিল এবং আমেরিকায় প্রথম পিজারিয়া খুলেছিলেন। এরপর থেকে পিজ্জার জনপ্রিয়তা ব্যাপক আকারে বাড়তে থাকে। 

৫. চিকেন ফ্রাইঃ ভাজা মুরগী, (যুক্তরাস্ট্রে বিভিন্ন যায়গায় সাউথ ফ্রাইড চিকেন নামে পরিচিত) মুরগির মাংসের বিভিন্ন অংশের সাথে আটা বা ময়দা মাখিয়ে কিংবা ছোট ছোট টুকরা করে কড়াইয়ে অল্প তেলে, ডুবা তেলে কিংবা কড়া করে ভেজে বানানো হয় । বেশীরভাগ সময় এটি তৈরী করতে ব্রয়লার মুরগি ব্যবহার করা হয়। আটা বা ময়দার অংশটুকু মচমচে একটি আলাদা প্রলেপ তৈরি করে। ভাজা মুরগী তৈরি করার জন্য একটি আস্ত মুরগির চামড়াসহ মাংস ও হাড় অক্ষত রেখে বিভিন্ন অংশে কেটে নেওয়া হয়। তারপর তা ডুবো তেলেভাজা হয়। উপরে মাত্র ৫ টি ফুডের উৎপত্তি,বিবরণ দেয়া হয়েছে।কিন্তু পুরো পৃথিবী জুড়ে হরেক রকম ফুড রয়েছে।যা অত্যন্ত লোভনীয়,সুস্বাদু আর হরেক রকমের স্বাদযুক্ত।

ফাস্টফুড এর জনপ্রিয়তা বাড়ে কিভাবে?

২০০৬ সালে বিশ্বব্যপী ফাস্ট ফুডের বাজার আগের বছরের চেয়ে ৪.৮% বৃদ্ধি পায় এবং এর মূল্যমান হয় ১০২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং মোট লেনদেন হয় ৮০.৩ বিলিয়ন। শুধুমাত্র ভারতেই এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিলো ৪০%। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ফাস্টফুড কোর্ট রয়েছে। যেমন : কেএফসি, বিএফসি, সিপি, হ্যালভেশিয়া, পিৎজা হাট, আমেরিকান বার্গার, ক্যাপ্টেন’স ওয়ার্ল্ড, পিৎজা কিং, বুমার্স, আল-বাইক প্রভৃতি। এই সমস্ত কোর্টগুলোর আবার সারাদেশে শাখা রয়েছে। এছাড়াও এলাকা এবং শপিং মলগুলোতেও রয়েছে ছোট-বড় অনেক ফাস্টফুড কোর্ট। বর্তমানে মানুষ ফাস্ট খাবারের পিছনে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করছে। ফাস্টফুড অতি লোভনীয়, সুস্বাদু ও দেখতে মনোমুগ্ধকর হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা দিন এর পর দিন বেড়েই চলছে।

কোন শ্রেণির মানুষগুলো ফাস্টফুড বেশি পছন্দ করে?

জরিপের ১৮ শতাংশ মানুষই তাদের মোট আয়ের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ খরচ করছে ফাস্ট ফুড খাবারের পেছনে এবং তাদের বেশিরভাগেরই মাসিক আয় ১৫০০০ টাকার কম। ২৪ শতাংশ মানুষ বলেন, তারা প্রতিমাসে ফাস্ট ফুডের পিছনে ৩০০০ টাকারও বেশি খরচ করে থাকেন। ৪২ শতাংশ মানুষ তাদের বেতনের থেকে এবং ৩২ শতাংশ মানুষ তাদের বাড়ির ভাতা থেকে ফাস্ট ফুড খাবারের পিছনে খরচ করে থাকে। উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ফাস্টফুড একটু বেশি পছন্দ করে থাকে। ফাস্ট-ফুড এর দোকান বা রেস্তোরাঁ এর বিপুল সম্রসারন এর ফলে মানুষ সহজেই সেখানে গিয়ে ফাস্ট-ফুড ক্রয় করতে পারছে।

ফাস্টফুড এর ভাল দিক কি রয়েছে?

বেশিরভাগ মানুষই এর খারাপ দিকটা নিয়ে আবগত আছেন। তবে এর ভাল দিকও রয়েছে।ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার সবজি জাতীয় সালাদ ও সস দিয়ে খাওয়া হয় ফলে আমিষ, চর্বি, ভিটামিন অর্থাৎ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।প্রায় রেস্তোরাঁয় রাধুনিদের মাথায় টুপি ব্যবহার করতে দেখা যায়।কারণ ভুলবসত যেন রাধুনির চুল খাবারে না চলে যায়। এছাড়া হাতে প্লাস্টিকের বা রাবারের মোজা ব্যবহার করতেও দেখা যায়।তারা চেষ্টা করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন করার। অনেকে মনে করেন যে রেস্তোরাঁর রাধুনিরা আগের দিনের মাংস পরের দিন বিক্রি করে।কিন্তু পরের দিন যখন গরম করে মাংস পরিবেশন করা হয় তখন জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া গুলো মরে যায়।ফলে মাংস বাশি হয় নাহ। 

ফাস্ট-ফুড এর খারাপ দিক টাও জানা দরকার তাই নাহ

ফাস্ট-ফুড নিয়ে অনেক আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। মূলত এর খারাপ দিক নিয়েই আলোচনা ও সমালোচনা হয়ে থাকে।অনেক রেস্তোরাঁ আছে তারা বাইরের ৫ তারার ঘোষণা দিয়ে ভেতরে ১ তারার চেয়েও খারাপ সার্ভিস দিয়ে থাকে।কিছু অসাধু ব্যাক্তি আছে যারা অতি লাভ এর আশায় বাশি ও পঁচা খাবার পরিবেশন করে।আবার এমন অসৎ ব্যাক্তিও আছে যারা ছাগলের মাংসের নামে কুকুর এর মাংস পরিবেশন করে। ফাস্ট ফুড মূলত সময় বাচায়। এই সময় বাচানোর জন্য অনেক রাধুনি কাচা খাবার দিয়ে থাকে।

আচ্ছা ফাস্টফুড এর এত সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও এর বিস্তার কিভাবে হচ্ছে?

ফাস্টফুড এর বিস্তার হচ্ছে শুধু  খাবারগুলো লোভনীয়, সুস্বাধু , আর বানাতে সময় কম লাগে তাই এর জনপ্রিয়তা অনেক। ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা গ্রাম পর্যন্ত চলে গিয়েছে। শহরের প্রায় জায়গায় এই ফাস্টফুড এর চাহিদা বিপুল। ছোট থেকে বড় সবাই এই খাবারকে পছন্দ করে। রেস্তোরাঁর মালিকরা  বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে কাস্টমার দের আকৃষ্ট করে থাকে। এছাড়াও তারা সামাজিক জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো কাজে লাগিয়ে তাদের মার্কটিং ছড়াতে থাকে। তারা বিভিন্ন লোভনীয় খাবারের ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে সাড়া জাগিয়ে তোলে। ফলে কাস্টমাররা রেস্তোরাঁয় ঐ খাবার গুলো গ্রহন করে থাকে। 

সবশেষে বলা যায়,ফাস্ট ফুড ভাল তবে অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ দেহের ভিতর রোগ বালাই সৃষ্টি করে থাকে।তাই এটি পরিমাণ মত গ্রহন করতে হবে। সচেতন হতে হবে আমাদের সবার। 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *