Shutterstock-1484432261-130749

জীবনের অস্তিত্ব পানির উপর নির্ভর করে,আর তাই পানিকে জীবনের অপর নাম বলা হয়। পানি এবং পানিকে ঘিরে সরাসরি বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত একটা বিরাট জনগোষ্ঠী। মরুভূমি, সমুদ্র কিংবা মহাকাশ স্টেশন; জায়গা যেটাই হোক পানি ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা অসম্ভব। পানির অপর নাম জীবন হলেও, পানি দিয়ে জীবন বাচানো কঠিন হয়ে পড়ছে দিনদিন! একদিকে পানির তীব্র সংকট অন্যদিকে সুপেয় পানির অভাব র্বতমান বিশ্বকে কঠিন বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।  বর্তমান সময়ে সুপেয় পানির অভাব একটা বিরাট সমস্যা হয়ে চোখ রাঙানি দিচ্ছে। শিশু থেকে বয়স্ক প্রত্যেকেই এই সমস্যার ভুক্তভোগী,আর শিশুরা এই সমস্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। 

সুপেয় পানির অভাবে অসংখ্য শিশু প্রতিদিন মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। সুপেয় পানির অভাব ও তার প্রভাব বিবেচনা করে,জাতিসংঘ পানির অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে।

Source : indiawaterportal

 

সুপেয় পানির অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত বহু মানুষ। দিনদিন সংকটাপন্ন এলাকাগুলো সুপেয় পানির সংকটে জড়িয়ে পড়ছে আরো বেশি করে। অতিদ্রুত এই সংকটের সমাধান না করলে, সুপেয় পানির সমস্যা একটি বিপর্যয় হয়ে দাড়াবে।

সুরক্ষিত সুপেয় পানি এবং সুরক্ষিত পয়োব্যবস্থাপনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের নতুন দুটি সূচক। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) এ দুটি সূচক না থাকলেও এসডিজিতে থাকা এ দুটো সুচকে বলা হচ্ছে, পানির ব্যবস্থাপনা সুরক্ষিত করতে হবে (সেফলি ম্যানেজড ওয়াটার)। যার ব্যখ্যায় বলা হয়েছে, পানির উৎস নিরাপদ হলেই হবে না, খাওয়ার আগ পর্যন্ত পানিটিকে নিরাপদ রাখতে হবে।

এশিয়া ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর জনগোষ্ঠী সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। ইউনিসেফের এক জরিপ অনুযায়ী চীন,ভারত এবং নাইজেরিয়ায় ২৫কোটির বেশি মানুষ সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে । বিশ্বের প্রায় ৭০ ভাগ পানি হওয়া সত্বেও, প্রায় ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে!  পৃথিবীতে যত মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়,তারচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যায়, পানিবাহিত রোগে। 

Source : unicef

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন পানিশুণ্য হয়ে পড়েছে,তালিকায় আছে আরো অনেক দেশ,সাথে আরো অনেক শহর। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা হোক কিংবা মিশরের কায়রো, পানির সংকট এখন চারদিকে।

বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ, এর চারদিকে অজস্র নদী,খাল-বিল থাকলেও আশংকার বিষয় হচ্ছে,  ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী সুপেয় পানির সুযোগ বঞ্চিত দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের স্থান অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় উপরের দিকে! পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত দূষন, নানা রাসায়নিকের মিশ্রন আর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াই এ সংকটের প্রধান কারন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক হিসেবমতে, বাংলাদেশে প্রায় ৯ কোটি মানুষ সুপেয় পানির অধিকার বঞ্চিত। সুপেয় পানির এই সমস্যা মৌসুমভেদে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে।  

Source : Alamy

আগামি দিনগুলোতে সুপেয় পানির অভাব তীব্রতর হবে যদি এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া না হয়। জাতিসংঘ বলছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যেতে থাকলে বাড়বে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শঙ্কা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে সুপেয় পানির জন্য চরম মুল্য দিতে হবে সবাইকে। নদী ব্যবস্থাপনার দিকে মনোনিবেশ,নদ-নদীগুলোকে সারাবছর সচল ও নাব্যতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা হাতে নিতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও প্রাকৃতিক জলাধার নির্মাণের দিকে জোড় দিতে হবে কতৃপক্ষকে। 

টিউবওয়েলের পানিকে আর্সেনিকমুক্ত রাখতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও এগুলো পর্যাপ্ত নয়। আর্সেনিকমুক্ত রাখতে নতুন কৌশল উদ্ভাবনের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা জরুরি,আরো জরুরি  পরিবেশ বিপন্ন হয় যেসব কাজে,সেসব থেকে সবার বিরত থাকা।    

মানুষের বিভিন্ন পরিবেশ বিপন্নকারি কাজ, পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি সুপেয় পানির ভান্ডারকেও দিন দিন সংকুচিত করে দিচ্ছে।পানির অপচয় ও অপব্যবহার রোধ করা সবার দায়িত্ব। আমরা প্রত্যেকে নিজনিজ অবস্থান থেকে,পানির অপচয় রোধে এগিয়ে না আসলে,নিকট ভবিষ্যতে ভুক্তভোগী হতে হবে একে একে আমাদের সবাইকে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *