5e2bffbe403fa

ই-কমার্স এর আদ্যোপান্ত    

বহুল আলোচিত ই-কমার্স বা ইলেকট্রনিক বানিজ্য। 

ফেসবুক এর নিউজ ফিড দেখতে দেখতে এর মাঝে কিছু পণ্য বিক্রি বা কেনার বিজ্ঞাপন পরিলক্ষিত করা যায়। যখনি ঐ বিজ্ঞাপনে ক্লিক করি চলে আসে ই-কমার্স সাইট। তখন সেখান থেকে একজন গ্রাহক একটি পণ্য অর্ডার দিলো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তার পছন্দকৃত পণ্য হাতে পেল এবং টাকাও পরিশোধ করল। আর এই পুরো বিষয়টিকে বলা হয় ই-কমার্স বা ইলেকট্রনিক বাণিজ্য। এর যাত্রা শুরু হয়েছিলো ১৯৭৯ সালে মাইকেল আল্ড্রিচ ডেমো তৈরীর মাধ্যমে। বাংলাদেশে এটি শুরু করা হয় ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে।  তখন বাংলাদেশের প্রথম ই- কমার্স সাইট ছিলো মুন্সিজিড ডট কম। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ই-কমার্স এর বিস্তার লাভ হতে শুরু করে। অনেক কথাই হলো এর ইতিহাস নিয়ে।

মাইকেল আল্ড্রিচ; Image Source : aldricharchive.com

ই-কমার্স এর  অর্থ কি? 

ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স বা ই-বাণিজ্য হলো একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র যেখানে কোন ইলেকট্রনিক সিস্টেম (ইন্টারনেট বা অন্য কোন কম্পিউটার নেটওইয়ার্ক) এর মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়/ বিক্রয় হয়ে থাকে। আধুনিক ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য কাজ পরিচালনা করে।বাংলাদেশ ডিজিটাল এর দিকে দ্রুততরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল ধারা অব্যাহত রাখতে হলে দেশের সব ক্ষেত্রকে ডিজিটাইলেজেশন করতে হবে। ই-কমার্স তার একটি পদ্ধতি । প্রচলিত ব্যবসা  বা বাণিজ্য কে সম্পূর্ণরুপে ডিজিটালাইজেশন করেছে এই ই-কমার্স ক্ষেত্র।এই ক্ষেত্রের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা তার মেধাকে কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে ব্যবসা বা বাণিজ্য পরিচালনা করে বিপুল টাকা অর্জন করতে পারে। 

বেকারত্ব দূরীকরণে ই-কমার্সের ভুমিকা কি হতে পারে? 

ই-কমার্স যেহেতু ইন্টারনেট আর কম্পিউটার ভিত্তিক সেহেতু এটি পরিচালনার জন্য জনবল প্রয়োজন। দেশের বড় একটি অংশ বেকারদের বেকারত্ব দূরীকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । বাংলাদেশে শিক্ষিত জনবল রয়েছে কিন্তু কর্মসংস্থান সেই তুলনায় খুবই কম।এই ক্ষেত্রটি বিভিন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্বের হার কমিয়ে আনতে  পারে।ধীরে ধীরে এই ক্ষেত্রটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে।জাতিসংঘের বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের হিসাব অনুযায়ী, সারা বিশ্বে খুচরা পর্যায়ে ই-কমার্সের বাজার ২ লাখ কোটি ডলারের।

বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে ই-কমার্স? 

হ্যা ঠিক। অনেকেই পড়াশোনা করার পাশাপাশি ই-কমার্সের মাধ্যমে বাড়তি আয় করতে পারছে। অনেক গৃহিণীকে দেখা যায় বাসায় বসেই বিভিন্ন কুটির শিল্প বা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস  তৈরী করে ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে। এর মাধ্যমেও তার বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।উইকিপিডিয়ার তথ্যঃ প্রথম আলো ২০১৪ অনুযায়ী, প্রতি বছর ১.৫ থেকে ২ মিলিয়ন মানুষ প্রতিবছর অনলাইন কেনাকাটা করে এবং এই বাজার ১৫% থেকে ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে।  মেট্রিকল্যাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ১ বিলিয়ন পণ্য ইন্টারনেট ব্যবহার করে ক্রয় করেছিল এবং পণ্যগুলোর ভান্ডার (স্টক) মূল্য ছিলো ১৪৭ বিলিয়ন বাংলাদেশী টাকা ৷ বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, প্রায় ১ মিলিয়ন গ্রাহক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের একাউন্ট করেছে এবং ২০১৪ সালে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে।দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট (বাংলাদেশ) অনুযায়ী, লেনদেনের জন্য ৳১,০০০ কোটি টাকা ই-কমার্সের মাধ্যমে বার্ষিক খরচ করা হয়েছে। তাহলেই বোঝাই যাচ্ছে ই-কমার্স এর দ্বারা আয়ের সুযোগ রয়েছে।

কি কি রকম পণ্য থাকতে পারে একটি ই-কমার্স  ওয়েব সাইটে আর এর গুণগত মান ও মূল্য কেমন হতে পারে? 

আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা বলেছেনঃ আগে এক কৃষক তার ফসল বিক্রি করতে হত বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিভিন্ন  মানুষ এর মাধ্যমে তাও অল্প দামে আর এই প্রযুক্তির যুগে একজন কৃষক তার ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটে তার নিজের মতন দাম ধরে ফসল বিক্রি করতে পারছে। তাও আবার সাইট কর্তৃপক্ষ তার ফসল তার থেকে নিয়ে নিজদায়িত্বে গ্রাহকের কাছে পৌছিয়ে দিচ্ছে।  ই-কমার্স সাইটে প্রায় সব পণ্য ক্রয় বা বিক্রয় করা যায়। তার গুণগত মানের নিশ্চিয়তা দেয় কিছু কিছু সাইট। এছাড়া তারা রিফান্ড পলিসি রাখে। বাইয়ের ব্যবসায়ীদের তুলনায় ই-কমার্স সাইট এ পণ্যের দাম কম। তারা গ্রাহকের আকর্ষণ পাবার জন্যেও বিভিন্ন উৎসবে অফার দিয়েও থাকে।

ই-কমার্সের সুবিধা বা অসুবিধা কি আছে? 

হ্যা আছে। সুবিধা অসুবিধা দুটোই রয়েছে এই ক্ষেত্রে।  ই-কমার্স এর মাধ্যমে নারীরা অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছে। তারা ঘরে বসেই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে।এবং নিজেরাই সাবলম্বি হতে পারছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ই-কমার্স এর মাধ্যমে সময় অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে। মোবাইলে বা কম্পিউটারের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় বিক্রয় সম্ভব হয়েছে। যা এই সভ্যতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।  বেকারত্ব হ্রাস পেতে পারে এই ক্ষেত্র আরো প্রসার এর মাধ্যমে। বিদেশে পণ্য রপ্তানি করেও বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করা যাবে। সুবিধার সাথে সাথে কিছু অসুবিধাও থাকে ই-কমার্স ক্ষত্রে।তবে অসুবিধা কম বলে আমার মনে হয়। কিছু অসাধু উদ্যোক্তা থাকে যারা অতি লোভ এর জন্য এই ক্ষেত্রে প্রবেশ করে। এই ক্ষেত্রে সফল হতে হলে ধৈর্যের প্রয়োজন।  আবার কিছু অসাধু ব্যাক্তি গ্রাহকের তথ্য চুরি করে হেনস্থা করে। 

পরিশেষে বলা যায় ইই-কমার্স সাইট আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জনসচেতনতার মাধ্যমে এটি আরো প্রসার লাভ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *