5e2c01435450d

আমাদের দেশে সাধারনত পুরুষরাই পরিবারের চালিকাশক্তি পুরুষরা পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে থাকে তাদের ওপর গোটা পরিবার নির্ভরশীল সেজন্য কর্মক্ষেত্রে পুরুষের বিচরন লক্ষ্যণীয়

কোন কাজই ছোট নয় তবে স্থান কাল পাত্র ভেদে কাজের ভেদাভেদ তৈরী হয়

চাকরি অন্যান্য পেশার চেয়ে মানসম্মত তাই চাকরিজীবী পুরুষদের হতে হবে স্মার্ট চটপটে এছাড়াও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ার দিকে নজর দিতে হবে

নিজেকে স্মার্ট রাখার জন্য বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া দরকার কিন্তু চাকরিজীবী পুরুষরা কিভাবে এটি করবেন? চলুন, জেনে নেয়া যাক

কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা

স্বাস্থ্যসম্মত মানসম্মত জীবন যাপন করতে প্রথমেই যেটি দরকার সেটি হচ্ছে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা  তৈরী করা যা আপনাকে করতে হবে কর্মক্ষেত্র ঘরের মধ্যে সমন্বয় রাখতে সাহায্য করবে

তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা

জনশ্রুতি আছেসকাল বেলার হাওয়া, হাজার টাকার দাওয়া কথাটি শুধুমাত্র একটি প্রবাদ নয় বাস্তব জীবনে এর প্রতিফলন ব্যাপক এই একুশ শতকে এসেও বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা দ্বিমত পোষণ করেননি বরং এর ওপর আরো গুরুত্ব দিয়েছেন সকালে ওঠে ব্যায়াম করুন বা হাঁটাহাঁটি করুন অভ্যাস সারাদিন ভালো থাকতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে

আনুসাঙ্গিক কাজ সারা

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হালকা ব্যায়ামের পর অফিসে যাওয়ার আগে আনুসাঙ্গিক কাজ সেরে নিন অবশ্যই অফিসে যাওয়ার আগে গোসল করে নিন যা আপনাকে সারাদিন সতেজ রাখতে সাহায্য করবে সকালের খাবার সেরে অফিসে বেড়িয়ে পড়ুন

অফিসের পোষাক

অফিসে যে কাপড়টি পরবেন অবশ্যই সেটাকে ইস্ত্রি করে নিবেন গরমকালে হাল্কা রঙ এবং সুতি কাপড় মোজা পরার চেষ্টা করুন কেননা এগুলো সূর্য থেকে কম তাপ শোষণ করে এবং শরীরে ঘাম কম হয়

অফিসে কাজের পরিকল্পনা

কর্মক্ষেত্রে দিনের শুরুতেই ঠিক করে নিন কোন সময় ঠিক কোন কাজটা করবেন তবে দিন গড়নোর সঙ্গে সঙ্গে হাতে একাধিক নতুন কাজ আসতেই থাকে এক এক করে নোট করে রাখুন সেসব কাজের তালিকা এবার কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী ঠিক করে নিন কোন কাজটি আগে শেষ করবেন

সময় ভাগ করে নেয়া

কাজ জমিয়ে রাখলেই বিপদ কারণ জমে থাকা অতিরিক্ত কাজের চাপই আপনার দুশ্চিন্তার মূল কারণ চেষ্টা করুন যেদিনের কাজ, সেদিনই সেরে ফেলতে কাজ একদমই জমিয়ে রাখবেন না বাড়িতে অফিসের কাজ না নিয়ে যাওয়াই ভালো

অফিসের খাবার

অফিসে দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকবেন না কারণ এতে আপনার শরীরে অ্যাসিডিটিসহ বিভিন্ন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে সবসময় নিজের সঙ্গে করে হালকা খাবার রাখুন বিভিন্ন ধরনের ফলমূল বিস্কুট জাতীয় খাবার খেতে পারেন

সহকর্মী এবং বসের সঙ্গে সম্পর্ক

কর্মক্ষেত্রে আপনার সহকর্মী এবং বসের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন, তার উপরে আপনার কাজ অনেকখানি নির্ভর করে সবার সঙ্গেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি বিশেষ করে টিম ওয়ার্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্কই কাজের গতিকে ধরে রাখে

ছোট বিরতি

একটানা বসে কাজ না করে দুইএক ঘণ্টা পর বিরতি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলুন, একটু হাটাহাটি করুন এতে কাজের গতিও ফিরে পাবেন

শরীরের যত্ন

হাত পায়ের নখ ছোট রাখার চেষ্টা রাখুনবড় করলে অবশ্যই সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন দাঁত ব্রাশ করার সময় জিহ্বা পরিষ্কার করতে ভুলবেন না কারণ জিহ্বা পরিষ্কার না করলে তা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে অফিসে যাওয়ার আগে মাউথওয়াশ বা মাউথফ্রেশনার ব্যবহার করুন ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন বাইরে থেকে ফিরে এসে সাবান কিংবা ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোমতো মুখ ধুয়ে ফেলুন

বিশুদ্ধ পানি পান

পানির অপর নাম জীবন পানির গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি শরীর সুস্থ রাখতে পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য তাই প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন, কমপক্ষে লিটার তাই অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা খুবই জরুরি প্রয়োজনে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন

সুষম খাদ্য

বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন আবার খাবার অতিরিক্ত কমও খাওয়া যাবে না কারণ এতে আপনার শরীরদুর্বল হয়ে যাবে খাবারের মধ্যে বৈচিত্র্য নিয়ে আসুন খাদ্য তালিকায় প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর শর্করাযুক্ত খাবার সঠিক পরিমাণে রাখুন খেয়াল রাখবেন আপনার খাবার তালিকায় ফল সবজি যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে কম মশলা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করুন নিয়মিত সুষম খাদ্যাভ্যাস আপনাকে সুস্থ সবল রাখতে সাহায্য করবে

বিনোদন

সপ্তাহ শেষে ছুটির দিন গুলিতে পরিবার নিয়ে বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন করুন বড় ছুটি পেলে দূরে কোথাও ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়তে পারেন যা আপনার কাজে একঘেঁয়েমি দুর করে নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি জোগাবে

পরিবারে সময় দেয়া

অফিস শেষে পরিবারকে সময় দিন কেননা পরিবারের জন্যই আপনার সব কার্যক্রম অফিস শেষে যতটুকু সম্ভব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিরত থেকে পরিবারকে যথার্থ সময় দিন

নিয়মমতো ঘুমানো

সুন্দর জীবন যাপনের ক্ষেত্রে রাতের স্বাস্থ্যকর নিয়ম মাফিক ঘুম অত্যাবশ্যক প্রতিদিন কমপক্ষে ঘন্টা ঘুমাবেন এতে শরীরের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়, শরীর প্রাণশক্তি ফিরে পায়, তাই নবউদ্যমে আবার কাজ করতে পারে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে নানারকম স্বাস্থ্য সমস্যা মানসিক সমস্যা তৈরী হয় অধিক সময় ধরে ঘুমাবেন না এতে আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে

নিয়ম করে ডাক্তার দেখান

ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে অনেকেই ছোটখাটো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাকে অবহেলা করেন এই ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যাই বড় আকার ধারন করতে নিতে পারে তাই অবহেলা করবেন না নিয়ম করে ডাক্তার দেখান স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

একটি রুটিন মাফিক জীবন যাপন করলে আপনি হয়ে উঠবেন একজন সফল চাকরিজীবীআর কর্মব্যস্ত জীবনটাও হয়ে উঠবে উপভোগ্য

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *