5e2d5587642aa

ফ্যাশনের টুকিটাকি   

একজন মেয়েকে যদি জিজ্ঞেশ করা হয় তার  ওয়ারড্রোবে কোন জিনিসটি তার না থাকলেই হয় না সে উত্তরে এই তিনটি জিনিসের একটির কথা অবশ্যই বলবে। তা হলো একটি  কালো সালোয়ার, ওড়না বা স্যান্ডেল। এই উত্তরের প্রধান কারণ আসলে খুবই সহজ, কালো সব কিছুর সাথেই বেশ ভালই মানিয়ে যায়। একটি কালো সালোয়ার আপনি যেমন  একটি কালো জামার সাথে পরতে পারবেন, ঠিক তেমনি সাদা, লাল, সবুজ, গোলাপি সব রং এর জামার সাথেই অনায়াসে মানিয়ে যায় এই রং টি। কালো স্যান্ডেল আর ওড়নার খেত্রেও বেপার টা একই। 

বাংলাদেশের মানুষ এখন আগের থেকে অনেক বেশি  ফ্যাশন সচেতন। সবাই চায় নিজেদের সুন্দর আর ভিন্ন ভাবে উপস্থিত করতে। দেশ বিদেশের ফ্যাশন সচেতন নারিদের থেকে আমরা এখন কোন কিছুতেই পিছিয়ে নেই। 

নারিরা এখন আগের থেকে অনেক বেশি বাহির মুখি। ঘরে বসে থাকা, বা বাহিরের দুনিয়ায় খবর না রাখা এখন পুরনো কথা। নারিরা চাকরি করছে, ব্যাবসা  করছে, কেও বা ঘরে বসেই অনলাইনে উপার্জন করছে। তাই কালের পরিবর্তনে নারিদের ফ্যাশনেরও পরিবর্তন হয়েছে অনেক খানি। নারিরা এখন সুধু শাড়ী, সালোয়ার-কামিজেই সীমাবদ্ধ নন। ব্লেজার, স্যুট-প্যান্ট, টি-শার্ট,স্কার্ট-টপস্,   ফরমাল ড্রেসআপ সব পোশাকেই এখন নারিরা অনন্যা। তাই আজকে নারিদের ওয়ারড্রোবে কোন কোন পোশাক গুলো আবশ্যক বা থাকা উচিত তা নিয়েই কথা বলব। 

 শুরুতেই যে পোশাকের কথা না বললেই নয় তা হলো শাড়ী। একটি বাঙ্গালী মেয়ের আলমারিতে আপনি শাড়ী পাবেন না তা হতেই পারেনা।  হোক সেটা যে কোন রং, বাঙ্গালি নারিকে সেটা মানাবেই। তবে আপনি যদি জিজ্ঞেশ করেন কোন রঙ্গের শাড়ী বেশ সব খানেই সহজে মানিয়ে যাবে তবে আমি বলবো লাল কিনবা সাদা শাড়ী। এই দুই রঙ্গে বাঙ্গালী নারিকে যেমন স্নিগ্ধ লাগে, তার সৌন্দর্যও বেরে যায় অনেক গুন। লাল বাঙ্গালির উৎসব যেমন পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, ষোলোই ডিসেম্বর, ছাব্বিশে মার্চ এই সব উৎসবেই  মানিয়ে যাবে আবার কনো দাওয়াত বা অনুস্ঠানে পরলেও লাগবে ভিশন সুন্দর। অন্য দিকে সাদাও আপনি পরতে পারবেন একুশে ফেব্রুয়ারি নয়তো গ্রীষ্মের কোন দুপুরে কিনবা রাতের অনুস্ঠানে। এখন চলে আসি কোথায় আমরা ভাল এবং রুচিসম্মত শাড়ী পাবো সেই কথায়। শাড়ী কিনতে হলে আমরা চলে জেতে পারি মিরপুর বেনারসি পল্লিতে। মিরপুর বেনারসি পল্লি সুধু ঢাকার না, বিশ্বের অন্যতম ব্রিহত শাড়ীর হাট। এইখানে কম দামি থেকে সুরু করে লাখ টাকার শাড়ীও পাওয়া যায়। ধানমণ্ডি হকার্সেও শাড়ীর ভাল এবং  মানসম্মত সংগ্রহ রয়েছে। ঢাকার গাউসিয়া,নিউ মার্কেট, মৌচাক এই সব জায়গায়ও পেয়ে জেতে পারেন পছন্দের শাড়ীটি। আবার যারা এতো দূরে বা ভির ঠেলে যেতে আগ্রহী নন তাদের জন্য আমাদের দেশিও ফ্যাশন হাউস গুলো একটি ভালো বিকল্প। আড়ং, দেশাল, অঞ্জন’স, নগরপল্লি, রং বাংলাদেশে, সাদা-কালোর মতন অনেক ফ্যাশন হাউস আছে যারা সুন্দর এবং মানসম্মত শাড়ীর সংগ্রহ রাখে। এখন আবার অনেকেই কাস্টম মেইড শাড়ী অথাৎ নিজেরা কাপড় কিনে,লেইস বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে ডিজাইন করে নিজের মতন শাড়ী বানিয়ে নেন। এখন আবার এক কালার শাড়ীর সাথে গরজিয়াস ডিজাইন করা ব্লাউজ ও পরছেন অনেকে। এই গেলো শাড়ীর প্রসঙ্গ এখন আসি সেলোয়ার-কামিজ এর কথায়। 

চাকরিজিবি বা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া যে সকল নারিরা আছেন তাদের অনেকের ই পছন্দের তালিকার শির্ষে রয়েছে সেলোয়ার-কামিজ। বিশেষ করে গরমে কটনের সেলেয়ার-কামিজ পরলে যেমন আরাম পাওয়া যায় ঠিক তেমনি দেখতেও লাগে বেশ রুচিসিল। কটন,জর্জেট,শিফন,সিল্ক সব রকমের কাপড়েরই সালোয়ার-কামিজ এর প্রচলন আছে। সালোয়ার-কামিজের খেত্রেও আপনি গজ কাপড় কিনে যেমন তৈরী করে নিতে পারেন, ঠিক তেমনই কিনে নিতে পারেন রেডিমেড। পার্টিতে পরার জন্য গরজিয়াস আবার দৈনন্দিন কাজে বাইরে যাওয়ায়  জন্য সিম্পল এবং আরামদায়ক সেলোয়ার-কামিজ বেছে নিতে পারেন। রেডিমেড কিনার জন্য আপনি চলে যেতে পারেন কাছের কোন মার্কেটে, সেখানে অনেক দোকান ঘুরে কিনে নিতে পারেন পছন্দের পোশাক টি। আবার বিভিন্ন ব্রেন্ড যেমন ইয়েলো, এক্সটাসি, ক্যাট্স আই, ইনফিনিটি এইসব দোকান গুলোতেও পাওয়া যাবে বিভিন্ন রকম সেলোয়ার-কামিজের কালেকশন। আবার আপনি যদি চান নিজেই ডিজাইন করবেন আপনার জামা টি,সেই খেত্রে চলে যেতে পারেন গজ কাপড়ের দোকান গুলোতে। নেট কাপড় থেকে শুরু করে, বিভিন্ন রকমের লেইস, পুথি,পার্ল, আপনার যা যা লাগবে একটি জামা তৈরীতে সে  সব ই পেয়ে যাবেন অনায়েসে। এখন অনেকে সালোয়ার-কামিজের থ্রি পিস সেট না কিনে কুর্তি কিনতে বেশি ভালবাসেন। কুর্তি হলো সিঙ্গেল কামিজ। কুর্তিতে যেমন থাকেনা ওর্নার ঝামেলা, আবার সিঙ্গেল কুর্তি কিনে সেটাকে জিন্স, লেগিংস, পেলাজো যে কোন কিছুর সাথে মানিয়ে পরে নিতে পারেন। এতে যেমন খরচও কমে তেমন একটি প্যান্ট বা লেগিংসের সাথে আপনি অনেক গুলো কুর্তি পরতে পারবেন। কুর্তির মধ্যেও আছে ভিন্নতা। লম্বায় খাটো এমন কুর্তিকে বলা হয় ফতুয়া, চার কোনা ঢিলে আলখেল্লাকে বলা হয় কাপ্তান। 

এবার আসা  যাক ওয়েস্টার্ন পরতে ভালবাসেন যারা তাদের প্রশঙ্গে। যারা ওয়েস্টার্ন কাপড়ে অফিস করতে ভালবাসেন বা দৈনন্দিন জীবনে ওয়েস্টার্ন কাপড় কে প্রাধাণ্য দেন  তাদের সুবিধার্তে আলমারিতে যে সব জিনিস অবশ্যই থাকা দরকার তা হলো এক কালার অন্তত দুইটা ফর্মাল প্যান্ট, একটা গাঢ় রং যেমন কালো, বাদামি, মেরুন, নেভি ব্লু, আর একটা হালকা রং যেমন বেইজ,হালকা গোলাপি,অফ ওয়াইট তবে  চলমান ফ্যাশনে যে রং এর বেশ প্রচলন দেখা যাচ্ছে তা হলো বেইজ বা নুড। আপনি এই ধরনের রং এর প্যান্ট এর সঙ্গে যেমন খুব চকচকে প্রিন্ট এর শার্ট বা টি-শার্ট পরতে পারবেন ঠিক তেমনই এক রঙ্গা কোন টপস্ এর সাথেও বেশ ভালই মানিয়ে যাবে এই প্যান্ট গুলো।  আপনি যদি ফ্লোরাল,এনিমেল,চেক প্রিন্ট পরতে ভালবাসেন তাহলে কিনে নিতে পারেন একটা প্রিন্ট এর প্যান্ট অথবা টপস্ যেটা আপনি পরতে পারবেন আপনার এক রঙ্গা প্যান্ট বা শার্ট এর সঙ্গে। আলমারিতে রাখতে পারেন একটা বা দুইটা জিন্সের প্যান্ট। বেসিক ব্লু জিন্স আপনি কিন্তু ফর্মাল শার্ট, এক রঙ্গের টি-শার্ট, চেক বা প্রিন্ট সব কিছুর সঙ্গেই পরতে পারবেন।  কালেকশনে রাখতে পারেন একদম ধবধবে সাদা একটি শার্ট, একটি সাদা শার্ট আপনার জন্য বিরাট এক সম্পদ হয়ে উঠবে। আপনি সাদা শার্ট পরতে পারবেন অফিসে,ইউনিভার্সিটি তে, পার্টিতে, এমন সব জায়গায় যেখানে আমাদের প্রতিনিয়ত যাতায়াত করা হয়। একটি সাদা শার্ট জিন্স, ফর্মাল প্যান্ট, প্রিন্ট এর প্যান্ট, চেক এর প্যান্ট সব কিছুর সাথেই মানিয়ে যাবে, এবং আপনার লুক্স এ-ও দিবে ক্লাসি টাচ্। কিনে নিতে পারেন পছন্দ মত একটি বা দুটি ব্লেজার, এক ব্লেজার বার বার পরতে ভাল না ও লাগতে পারে। হালকা শীতে অথবা ইউনিভার্সিটির বা অফিসের  প্রেসেন্টেশনে ব্লেজার পরলে আপনাকে লাগবে ক্লাসি আর মডার্ণ। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা স্কার্ট পরতেও বেশ পছন্দ করেন, তারা নিজের রুচি আর পছন্দের লং, মিডিয়াম বা শর্ট স্কার্টটি কিনে নিতে পারেন। এই সব কিছুই আপনি পেয়ে যাবেন ঢাকা কলেজের বিপরীতে নুরজাহান মার্কেটে,আর আপনার জন্য সেটা স্বাচ্ছন্দের না হলে চলে যেতে পারেন কাছের কোন শপিং মলে। আর আপনি যদি ব্রান্ড প্রেমী হয়ে থাকেন দেশি-বিদেশি সব নাম করা ব্রান্ড শপ গুলোতেও পেয়ে যাবেন পছন্দের পোশাকটি। 

সর্বশেষে কথা বলা যাক একসেসোরিজ নিয়ে। প্রচলিত একটি কথা অনুযায়ী জুতো দেখলে মানুষের রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। আর তা সঠিক ও। একজন মানুষের জামা-কাপড় যতই চকচকে থাকুক না কেন তার স্যান্ডেল বা জুতো  যদি রুচিসম্পন্ন না হয় তাকে দেখতে কখনই সুন্দর লাগবেনা। তাই বেছে নিতে হবে এমন জুতো যা আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে যায়। আর জানতে হবে কোন ধরনের কাপড়ের সঙ্গে কি রকম জুতো মানানসই। সব রং এর জামার সাথে বা ডেইলি ওয়েরের জন্য বেছে নিতে পারেন গাঢ় রঙ্গের ফ্ল্যাট স্যান্ডেল। কালো, খয়েরী এই জাতিয় রং গুলো সব কিছুর সাথেই মানাবে। আপনি যদি হিল পরতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তাহলে পার্টি বা এই জাতীয় অনুশ্ঠানের জন্য কিনে নিতে পারেন  কারুকার্যময় হিল স্যান্ডেল। শপিং মল গুলো ঘুরলেই চোখে পরবে আরও অনেক রকম জুতো: বুট, স্নিকার্স, পাম্প সু আপনি কিনে নিতে পারেন আপনার মন মত।   

একসেসোরিজের মধ্যে ঘড়ি,ব্রেসলেট, চুরি, কানের দুল অনেক কিছু আছে। আপনাকে  নির্ধারণ করতে হবে আপনাকে কিসে সব থেকে বেশি মানানসই মনে হয়। আর সাথে এটাও মাথায় রাখতে হবে আমাদের  সুধু লেটেস্ট ট্রেন্ড ফলো করলেই হবেনা। মনে রাখতে হবে আপনাকে যা মানায় না তা কখনই আপনার জন্য না সেটা যতই জনপ্রিয় হোক না কেন। আপনাকে যা মানায় আপনার জন্য ওইটাই ফ্যাশন।                                                    

Adina Taimum

BY:

[email protected]

An epistemophilic straightforward,honest to mistakes,loves writing. Friendly,hardworking. An altruist, nocturnal,glutton & loves cooking. Kinder than the kindest person you know,a bit...

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *