5e16d98b9d586

HIV একটি ভাইরাস। Human Immuno Deficiency Virus -এর সংক্ষেপ নাম হয়েছে HIV. এই ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ হলেই রোগ হয়ে যায় না। সংক্রমণ হয়ে রোগ হতে অনেক বছর লাগে। ১০ থেকে ১৫ বছর বা ২০ বছর পর এই রোগ হয়। এজন্য যাদের HIV আছে,তাদের অনেকের কোনো রোগ নেই। তবে এই HIV ইনফেকশনের কারণে কতকগুলো লক্ষন শরীরে দেখা দিতে শুরু করে – সেটা জ্বর, ওজন কমে যাওয়া,ডায়রিয়া বা টিবি হতে পারে। HIV এর কারণে যখন এই রোগগুলি দেখা দেয় তখন একে এইডস বলে। একবার সংক্রামক HIV শরীরে ঢুকলে একে পুরোপুরি দূর করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, তাই HIV সংক্রমণ হলে এইডস প্রায় অনিবার্য।

এইডসের লক্ষন; Image Source: istockphoto

সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গত বছর প্রতি ঘন্টায় গড়ে ১৮ জন শিশু HIV তে আক্রান্ত হয়েছে। আর একই সময়ে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষের দেহে এই ভাইরাস ছিলো। এর মধ্যে ২১ লক্ষ কিশোর-কিশোরী HIV নিয়ে বসবাস করছে। ১৪ বছরের কমবয়সী প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কিশোর-কিশোরী গত বছর এইডস সংক্রান্ত কারণে প্রাণ হারিয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, এইডসের কারণে মারা যাওয়া কিশোর-কিশোরীদের প্রায় সবাই সাব-সাহারা আফ্রিকার বাসিন্দা ছিলো। এছাড়া বিশ্বব্যাপী কিশোরদের চেয়ে কিশোরীদের মধ্যে HIV আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি। তবে গর্ভবতী মায়েদের শরীর থেকে নবজাতকের দেহে HIV সংক্রমণের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ নতুন সংক্রমণ এড়ানো গেছে।

Images Source : childrenandaids.org

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস বিষয়ক কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডাঃ সামিউল ইসলাম সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ২৩ টি জেলা বেশি এইডস ঝুকিতে রয়েছে। মোট এইডস আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ৩০০ শিশুও রয়েছে। এইডসের ঝুকিতে থাকা জেলাগুলো হচ্ছে – ঢাকা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ,মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাদপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মায়ের কাছ থেকে শিশুরা সাধারণত তিনটি উপায়ে HIV ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে এবং বুকের দুধের মাধ্যমে সন্তানের শরীরে এই জীবানু ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মতে, ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই শিশুরা তাদের মায়েদের কাছ থেকে HIV বা এইডসে আক্রান্ত হয়।সেহেতু সন্তান নেয়ার আগে মায়েদের এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মায়ের কাছ থেকে শিশুরা সাধারণত তিনটি উপায়ে HIV ভাইরাসে আক্রান্ত হয় ; Images Source : aidsinfo.nih.gov

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারও শরীরে জীবাণু প্রবেশের ১৮ মাস পর সাধারণত HIV ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, যত্ন, পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মনীতি মেনে চললে দেহে এই ভাইরাস বহন করেও দীর্ঘদিন বেচে থাকা যায়। কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলে রোগী এইডসের দিকে এগিয়ে যায়। বর্তমান বিশ্বে প্রতিবছরই প্রায় ২৭ লাখ লোক HIV বা এইডসে আক্রান্ত হচ্ছে। এইডস প্রতিরোধে সচেতনতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের প্রতিবেদন বলছে, এইডসের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কিশোর-কিশোরীর মৃত্যু হতে পারে। এই সময়ে HIV প্রতিরোধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রকল্পে বাড়তি বিনিয়োগ করা না হলে প্রতিদিন ৭৬ জন কিশোর-কিশোরীর মৃত্যু হবে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, অনেক শিশু ও কিশোর কিশোরী জানে না তারা HIV তে আক্রান্ত কিনা। HIV আক্রান্ত যাদের পাওয়া গেছে ও চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে, তাদের মধ্যে খুব কমসংখ্যকই চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের এক শহরে HIV টেস্টে প্রায় ৯০০ শিশুর ফল ‘পজেটিভ’ এসেছে। যাদের সবার বয়স ১২ বছরের কম। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় কিছু ‘হাতুড়ে’ ডাক্তারদের গাফিলতিতেই এমন ঘটনা ঘটেছে। কোনওভাবে টীকাকরনের সময় বা শিশু, মহিলাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়ে সংক্রামিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করেছিলেন ওই ডাক্তাররা। UNAIDS জানিয়েছে, এই মহামারী রুখতে না পারলে এবং স্থানীয় ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে, অচিরেই একটা গোটা প্রদেশ শিশু শুন্য হয়ে যাবে।

Images Source : The New York Times

শুধু পাকিস্তান, ভারত বা বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বে অগণিত শিশু আজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে HIV বা এইডসের শিকার। বাবা মায়ের অকাল মৃত্যুতে বাচ্চারা অনাথ হয়ে যায়, অভিভাবকদের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়। আবার, যে হারে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের হার বাড়ছে তার ফলে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সব থেকে বেশি। ছোট শিশুদের মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি আরও একটি ভয়াবহ সমস্যা। এমতাবস্থায় শিশুদের HIV/AIDS সম্পর্কে জানানো উচিত এবং এই মারণ রোগ থেকে যাতে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে তাদের সেই অধিকার দেওয়া উচিত।

Images Source : Getty Images

এশিয়ার মধ্যে ভারতবর্ষে HIV বা এইডস-এ আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি। ভারতের পরেই রয়েছে চীন। UNAIDS -এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের ০–১৪ বছর বয়সী বাচ্চাদের মধ্যে ১ লক্ষ ৬০ হাজার শিশু HIV পজেটিভ।

এককথায় গোটা বিশ্বই রয়েছে HIV ঝুকিতে, শিশুরাও এই মহামারীতে আক্রান্ত। সচেতনতা, সঠিক শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে এর প্রতিরোধ সম্ভব।

Zannatun Naim Monika

BY:

[email protected]

আমি মনিকা। বসবাস পাবনাতে। ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স করেছি।...

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *