5e2602d902963

সামাজিক মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া এমন একটা মাধ্যম যেখানে বিশ্বের প্রতিটি মানুষ একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে।একে অপরের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে। এটা এমন একটা মাধ্যম যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় তারকাদের সাথে পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়।ফেসবুক, ইনষ্টাগ্রাম, টুইটার, ইউটিউব  এগুলো হচ্ছে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত কিছু সোশ্যাল মিডিয়া।

বর্তমান সময়ে যোগাযোগের অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ বলতে শুধু একটা সমাজের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বোঝায় না। সামাজিক যোগাযোগের পরিধি এখন সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষ কিছু মাধ্যমের ফলে যোগাযোগকে এমন সহজ করে ফেলেছে যা আমাদের কল্পনারও সম্পূর্ণ বাইরে। অবশ্য বিজ্ঞজনরা বলছেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের জীবনকে অনেকভাবেই সহজ করে তুলেছে- এটা সত্যি। কিন্তু এর বিপরীত দিকও আছে। এসব মাধ্যমের প্রতি আসক্তি এমন পর্যায়ে চলে গেছে, যে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানসপটে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ডিজিটাল মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু এবং  তরুণরা, সামাজিক ও পারিবারিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।বর্তমানে দেখা যায়, তরুণদের স্মার্টফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার একটি বড় কারণ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, খেলার মাঠ না থাকায় এবং বাইরে খেলাধুলার পরিবেশ না থাকার কারণে পিতামাতাই বিভিন্ন ইলেকট্রনিক খেলনা, মোবাইল ফোন, ভিডিও গেমস, ট্যাব, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টেলিভিশন ইত্যাদি দিয়ে শিশুদের ব্যস্ত রাখছেন। এমন বাবা-মায়ের অসচেতনতার কারণেই শিশুদের ডিজিটাল মিডিয়ায় আসক্তি বাড়ছে।এর ফলে বাড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি। বর্তমানে শিশুদের দেখা যায়, পুরো সময়টা ব্যস্ত মুঠোফোন কিংবা কম্পিউটার নিয়ে। ফেসবুক, বিভিন্ন চ্যাট, গেমসহ নানা সাইবার জগতে অবাধ বিচরণ করছে শিশুরা। শুধু শিশুরাই নয়, ডিজিটাল মিডিয়া প্রভাবিত করছে তরুণদেরও।সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক সাইবার ক্রাইম সংঘটিত হচ্ছে। মানুষ কে প্রতিনিয়ত হেনস্থা হতে দেখা যাচ্ছে।বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কিন্তু এর জন্য দায়ী কি শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া?এর জন্য দায়ী কিছু মানুষের নোংরা মন মানসিকতা।

Image Source : Adobe Stock

সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের উপকার করছে অনেক ভাবে।আজকাল ফেসবুক,  ইনষ্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ বিশ্বের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারছে।শুধু কি তাই আরো অনেক কাজে সোশ্যাল মিডিয়া গুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।ফেসবুকের মাধ্যমে যে কোন খবর মানুষ খুব দ্রুত জানতে পারছে। যেটা হয়তো এক সময় মানুষ টেলিভিশন,পত্রিকা,  রেডিও তে জানতে পারত এখন সেটা ফেসবুকের মাধ্যমেই জানা যায়।

এর মাধ্যমে সামাজিক, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসছে তরুণরা। ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ থেকে বিভিন্ন শিক্ষামূলক তথ্য জানা যায়।শুধু তাই নয় কারু অসুস্থতায় রক্তের প্রয়োজন হলে ফেসবুকে সেটা মানুষ শেয়ার করে জানাতে পারে। আগে যেটা টিভির মাধ্যমে বা পত্র- পত্রিকার মাধ্যমে জানানো হতো। যা অনেক দীর্ঘস্থায়ী একটি প্রক্রিয়া ছিল। কিন্তু ফেসবুক আসার ফলে এখন মানুষ দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করে ফেলতে পারছে।সম্প্রতি কয়েক মাস আগে সারা দেশে যখন ‘ডেঙ্গু’ মহামারী আকারে দেখা গিয়েছিল ঠিক তখন ফেসবুকের মাধ্যমেই অনেক মানুষের রক্ত যোগাড় করা হয়েছিল।

Image Source: mobiletor.com

অন্যদিকে,  ফেসবুক বেকারত্ব দূর করতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। ফেসবুকে বিভিন্ন চাকুরির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। যেখানে মানুষ সহজে আবেদন করতে পারছে।ছাত্র-ছাত্রী দের পড়াশুনার ক্ষেত্রেও অনেক সাহায্য করছে ফেসবুক।

বিভিন্ন শিক্ষামূলক  গ্রুপ, পেজে নোট বা ভিডিওর মাধ্যমে পড়া বুঝিয়ে দেয়া হয় যার ফলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত ও হচ্ছে।শিক্ষক দের ও সুবিধা হচ্ছে।নিজেদের ঘরে বসেই তারা সহজে পড়া বুঝিয়ে দিতে পারছে। ইউটিউব এর মাধ্যমে অনলাইন কোর্স করিয়ে অনেক টাকা আয় করছে। বিজনেস ও করা যাচ্ছে। বিভিন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং করে অনেক টাকা আয় করতে পারছে ব্যবসায়ীরা।

ফেসবুক লাইভে এসে এসব কাজ করতে পারছে তারা। গৃহিনীরাও অনলাইন বিজনেস করতে পারছে অবসর সময়ে ঘরে বসেই।ইউটিউব এও বিজনেস করা যাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষামূলক, বিনোদনমুলক টিউটোরিয়াল বানিয়ে বেশ টাকা আয় করা যাচ্ছে।

Image Source : Youtube

এত এত উপকারীতা থেকেও কেন সোশ্যাল মিডিয়াকে ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছি আমরা? এই সোশ্যাল মিডিয়া তো সমাজের উপকারের জন্য তৈরি হয়েছিল।সমাজের ক্ষতির জন্য নয়। তবুও সমাজের যখন ক্ষতি হচ্ছে তাহলে এর জন্য আসলে দায়ী তো আমরা মানুষ ই। কারণ সামাজিক মাধ্যমগুলোর ব্যবহার আমরা মানুষ রাই করছি।মানুষ যে পথে  ব্যবহার করবে সমাজ ও সেই পথেই যাবে।আমরা যদি ভালো পথে ব্যবহার করি তবে সমাজের ভাল হবে, খারাপ পথে ব্যবহার করলে সমাজের ও খারাপ হবে।আসলে সব কিছু নির্ভর করছে মানুষের ব্যবহারের উপর।সঠিক ব্যবহার করলে সমাজ, দেশ এবং বিশ্বও সঠিক পথে এগুবে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার টাই জানিনা।

ফেসবুক, ইনষ্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া তে আমাদের কে অনেক ভাবে অপদস্থ হতে হয়। তার কারণ আমরা নিজেরাই। আমরা জানি বিষ খেলে আমাদের মৃত্যু হতে পারে তবু সেটা বুঝেও যদি আমরা বিষ খাই আমাদের মৃত্যু হতে পারে।এখানে বিষকে দায়ী করা যাবেনা।যে খাবে সে ই দায়ী হবে এই মৃত্যুর জন্য। তেমন ই সোশ্যাল মিডিয়াগুলো অনেক টা এরকম ই। যদি খারাপ কাজে ব্যবহার করি তবে সমাজের ক্ষতি হবে আর যদি সঠিক ব্যবহার করি তাহলে সমাজের, দেশের এবং বিশ্বের উন্নতি হবে।সেই সঠিক ব্যবহার গুলো কি সেগুলো আমাদের জানা দরকার।

Image Source : Adobe Stock

নিরাপত্তা :- প্রথমত আমাদের  নিজেদেরকে নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে। চাইলেই কিন্তু আমরা নিজেদের কে নিরাপদ রাখতে পারি।সামাজিক মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া তে কোন ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে খেয়াল রাখতে হবে সেটা শেয়ার করার মত কিনা। বা শেয়ার করলেও তা প্রাইভেসি দিয়ে শেয়ার করতে হবে। ফেসবুকে প্রাইভেসি দেয়ার জন্য সু ব্যবস্থা আছে।সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই আমাদের আর হেনস্থা হতে হবেনা।সামাজিক মাধ্যম গুলো সমাজের উন্নয়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে তাই আজেবাজে বা অশ্লীল কিছু শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। 

সচেতনতা – মা- বাবাদের সতেচনতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।শিশুদের হাতে স্মার্ট ফোন দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ১৮ বছরের আগে কোন শিশুর হাতে স্মার্টফোন দেয়া উচিত নয়।আজকালকার ছেলে-মেয়েরা স্কুল- কলেজেই স্মার্টফোন পেয়ে যায়।তারা পড়াশুনার চেয়ে স্মার্টফোন চালানোর দিক দিয়ে বেশি দক্ষ থাকে এখন।যার ফলে তারা পড়াশুনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারেনা।না বুঝে অনেক খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে।এদিকে মা- বাবা দের খেয়াল করতে হবে। তাদের সন্তান দের হাতে যেন অল্প বয়সে স্মার্ট ফোন না দেয়া হয়।

আত্মবিবেচনা -সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজেদের ভাল-খারাপ কাজের  বিবেচনা করতে হবে।সামাজিক মাধ্যম গুলোর কিছু নিয়ম-কানুন আছে সেগুলো অবলম্বন করে চলতে হবে।যেই সুযোগ -সুবিধা গুলো আছে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে আর খারাপ কাজ গুলো বর্জন করতে হবে।

বলা হয়ে থাকে যে সামাজিক মাধ্যম গুলো মানুষের সময় অপচয় করে।কিন্তু আমরা চাইলেই তা সময় অপচয়ে ব্যবহার না করে সময়োপযোগী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।শিক্ষা, চাকুরি, ব্যবসা এসব ক্ষেত্রে যেই সুযোগ – সুবিধাগুলো আছে সেগুলো কাজে লাগালেই কিন্তু আমাদের আর সময় অপচয় হবেনা।বরং আমাদের উপকার হবে।

সামাজিক মাধ্যম আমাদের সমাজের কল্যাণে তৈরি হয়েছে তাই আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে তা সমাজের কল্যাণেই কাজে লাগানোর। কিছু নিয়ম -কানুন আর আমাদের সচেতনতা ই পারে পুরো সমাজ, দেশ এবং বিশ্ব টাকে ভালো রাখতে।এই মাধ্যম গুলোকে আমাদের পৃথিবীর উন্নয়নের চাবিকাঠি  হিসেবে কাজে লাগাতে হবে, পৃথিবী ধ্বংসের অস্ত্র হিসেবে নয়।

Sabrina Ibtesham Trisha

BY:

[email protected]

I'm a student. I love to write.Writing is my passion.I write only as a hobby.It makes me to feel free.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *