Protest Against Child Rape In Dhaka- Gettyimages

নারী স্ত্রী বাচক শব্দ। নারীর অনেক রূপ।নারী মা হন,স্ত্রী হন,মেয়ে হয়, নারী বেঁচে আছে তাই মানবজাতি বেঁচে আছে।নারী ছাড়া মানবজাতি কল্পনা করা যায়  না।নারীদের রক্ষা করা সমাজের এক অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু এই নারীরাই সমাজে সব চেয়ে বেশি অবহেলিত হয়ে থাকেন।বিশেষ করে বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান এসব দেশে নারীদের সব চেয়ে বেশি অবহেলিত হতে দেখা যায়। শুধু অবহেলা ই নয় তাদেরকে অনিরাপদ জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে চলতে হয়।নারী নিরাপত্তা বলতে আমরা বুঝি তাদের সুরক্ষা বা বিপদ শূন্যতা। পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রে মর্যাদার সাথে বসবাস করার জন্য নারীর সুরক্ষা প্রয়োজন।এই নারীর নিরাপত্তা টাই এখন আমাদের সমাজে নেই।বাংলাদেশে নারীর নিরাপত্তা একেবারে শূন্যের কোঠায়।

আমাদের সমাজে নারীর অবহেলা ঘর থেকেই শুরু হয় তারপর সেই অবহেলা থেকেই একসময় নারীরা বিভিন্ন রকম নির্যাতন এর শিকার হোন।  অথচ নারীকে সম্মান দেয়া, নারীর সুরক্ষা করা সমাজের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব কি সমাজ পালন করছে আদৌ? আমাদের সংবিধান নারী-পুরুষের সমানাধিকারকে নিশ্চিত করেছে। কিন্তু সমাজে নারী-পুরুষের চরম বৈষম্য দেখা যায়। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন।প্রতিনিয়ত নারীকে ঘরে-বাইরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে।   একটা নগরে নারী-পুরুষ সবার সমান অধিকার থাকবে। সবাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের এই নগরে নারীরা কি স্বাধীন? তাঁরা কি মুক্তভাবে সব জায়গায় যাওয়া-আসা করতে পারছেন? না। এই নগর নারীদের জন্য মোটেই নিরাপদ না। ঘর থেকে বের হলেই মনের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক কাজ করে ঠিকভাবে ঘরে ফিরতে পারবে তো? পথে কোনো সমস্যা হবে না তো? রাস্তা, যানবাহন, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোথাও নারী আজ নিরাপদ বোধ করতে পারছেন না।

Images Source : DailyMirror

তাহলে এই নগরে নারীর সুবিধা কোথায়? নগরে নারীর কি স্বীকৃতি আছে? তিনি কি পারছেন পুরুষের মতো করে সব সুবিধা ভোগ করতে? নারী যখন অফিসে যাওয়ার জন্য সকালে যানবাহনে ওঠেন এবং দিন শেষের ক্লান্তি নিয়ে যানবাহনে ঘরে ফেরেন, এই দুই সময়েই তাঁকে খুব অসম্মানজনক অবস্থায় চলাচল করতে হয়।  ঘর থেকে বের হলে অনেক ক্ষেত্রে নারীকে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনই অবস্থা কি সারা পৃথিবীতেই? না। এমন কিছু দেশ আছে যেখানে সামাজিক অবস্থাটা নারীর জন্য খুবই নিরাপদ এবং স্বস্তিজনক। এসব দেশ সাম্প্রতিক সময়ে নারীর নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে অনেকদূর। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ সুবিধাও তুলনামূলকভাবে বেশি এখানে। সুইডেন,নরওয়ে,কানাডা,নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলীয়া, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড,ইটালি  ইত্যাদি দেশে নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবস্থান খুব ই ভাল।এক যুগেরও বেশি প্রাচীন সভ্যতার দেশ ইতালিতে বসবাস। কিন্তু নারীদের নিরাপত্তার অভাব আছে বলে মনে হয় না। চব্বিশ ঘণ্টায় নিরাপদ একটি জীবন নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করছে নারীরা।তবুও কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না। এমনকি ঘুটঘুটে রাতের আঁধারেও একাকী পুরো শহর চষে বেড়ালেও বলার ও উত্ত্যক্ত করার এমন কেউ নেই।

Images Source : GettyImages

ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট কোনো ঘটনা হওয়া তো দূরের কথা একাকী একজন নারী হিসেবে কেউ কাছে গিয়ে কথা বলার মত সাহস কারো নেই। আবার একেবারে ধর্ষণের মতো ঘটনা নেই একথা পুরোপুরি অস্বীকার করাও যাবে না। তবে তুলনামূলক অনেক অনেক কম।বছরে সম্ভবত হাতেগোনা কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা সংবাদপত্রে চোখে পড়ে। যা দূর্ঘটনা হিসেবে ধরা যেতে পারে।উন্নত দেশে এসব নিকৃষ্ট, জঘণ্য কর্ম না ঘটার কারণ অবশ্যই আছে। তা হলো আইনের সুশাসন। অপরাধীর বিচার হয় সংবিধানের নিয়মানুসারে। ফলে অপরাধ করতে সবাই ভয় পায়।

Images Source : GettyImages

অন্যদিকে জন্মের পরপরই হোক দেশি অথবা বিদেশি প্রতিটি নাগরিকের একটি ষোল সংখ্যা বিশিষ্ট নাম্বার রয়েছে। যে নাম্বার দ্বারা একজন ব্যক্তিকে দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব।এই ষোল ডিজিটের কার্ডটি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক। এই কার্ডের এতো গুরুত্ব যে এটি ছাড়া ব্যবসাসহ কোনো প্রকার কাজ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে এ কার্ডটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অপরাধী যেই হোক না কেন শাস্তি বাধ্যতামূলক পেতেই হয়। কোনো হস্তক্ষেপ কাজে আসে না।হোক সে ক্ষমতাসীন কোনো দলের অথবা বিরোধী দলের কেউ। আর নয়তো সরাসারি কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি। সবাইকে আইনের কাছে অসহায় থাকতে হয়।ক্ষমতার একক হলো সংবিধান। এর বাইরে কারো কোনো আপত্তির মূল্য নেই। এমনকি পেশী শক্তি, মুখ দেখে বিচার, আত্বীয় দেখে ক্ষমা করেন না আদালত। আইন সবার জন্য সমান।এ জন্য স্থানীয় নাগরিক ও অভিবাসীর শেষ ঠিকানা আইনের আশ্রয়।যেখানে কারু অবৈধ আবদার রাখা হয় না। ফলে আইনের প্রতি সবাই শ্রদ্ধাশীল | আমরা বড় অসহায় জাতি, বিশেষ করে নারীরা। ইতালিতে প্রশাসনের তৎপরতার কারণে নারীদের কাছে রাত ও দিন সমান। প্রতিটি কাজে নারীদের অবাধ বিচরণ চোখে পড়ার মতো।একজন নারী ট্রেন, বাস, ট্রাকসহ সব প্রকার যানবাহন দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কোনো উত্যক্ত করে না। স্বাধীন জীবনে অবিরাম সুখ অতিবাহিত করে যাচ্ছে।তবে এও সত্য, ভালো কোনো কিছু একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এখানে জনগণ অনেক সচেতন। ফলে নিয়মের বাইরে কোনো কাজ কেউ করে না। তাদের সুন্দর কাজ দিয়ে সরকারকে সর্বদা সহযোগিতা করছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করছে। প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। ফলে নারীদের সম্ভ্রম হারানোর কোনো ভয় নেই। অন্যান্য দেশেও ঠিক তাই।    

Images Source : GettyImages

                                                

আমরা চাইলে ই পারি আমাদের সমাজ কে, দেশকে নারীর নিরাপত্তার মাধ্যমে নারীর বসবাস উপযোগী করে তুলতে।তবে তার জন্য আমাদের করণীয়  অনেক কিছু আছে। সেগুলা হলো-

সচেতনতা বৃদ্ধি:-ঘর থেকেই শুরু হোক সচেতনতা বৃদ্ধি।কথায় আছে শিক্ষিত মা ই পারে শিক্ষিত জাতি গড়তে। মা যদি সন্তান কে সুষ্ঠু শিক্ষা দান করে তবেই দেশ কুলাঙ্গার মুক্ত থাকবে। সন্তানদের এই শিক্ষায় বড় করতে হবে যাতে রাস্তাঘাটে চলার পথে নারীদের সম্মান দেয়। অসৎ পথে না চলে।এই শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সন্তান দের প্রতি খেয়াল দিতে হবে। কোথায় যাচ্ছে, কি করছে।কার সাথে মিশছে। শুধু পড়াশুনা করালেই চলবে না। তাদেরকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।তাদের অন্যায় কাজে প্রশ্রয় দেয়া চলবে না।আমরা অনেক সময় দেখি ছোট বাচ্চারা খেলতে গিয়ে মারামারি লাগলে তাদের বাবা- মা এসে সেখানে একজন আরেকজনের বাচ্চাকে দোষারূপ করে।অথচ নিজেদের সন্তান কে তারা শাসন করছে না।এটা একেবারেই ঠিক না।এখান থেকেই বাচ্চারা প্রশ্রয় পায়।তারা শিখে যে তারা যত বড় অন্যায় ই করুক না কেন তাদের সাপোর্ট দেয়ার জন্য মা-বাবা আছেন।এভাবেই তারা ছোট অপরাধ থেকে এক সময় বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই এসব দিকে বাবা- মা এর খেয়াল দিতে হবে।

Images Source : GettyImages

সুষ্ঠু আইন প্রয়োগ: দেশে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ হতে হবে।আমাদের দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। কিন্তু সেটা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে। নয়তো ধর্ষক রা শুধু জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যায়।এই আইন ও সঠিক ভাবে পালন করা হয়না। আমাদের দেশে ধর্ষক রা শাস্তি ই পায়না বললেই চলে। অথচ অন্যান্য দেশে ধর্ষকের সাজা মৃত্যু। আমাদের দেশেও ধর্ষক দের মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা উচিত সেটা যে ধর্ষণ ই হোক। আইন কে আরো বেশি কঠোর হতে হবে।জনগণের সাহায্য ও এখানে কাম্য।যেসব দেশে নারীদের নিরাপত্তা আছে সেসব দেশে শুধু আইন দিয়ে তারা নিরাপদ নয়। জনগণের সহায়তা ও সেখানে আছে।আমাদের ও সহায়তা করতে হবে।কোথাও নারী নির্যাতন চোখে পড়লেই সেটা সাথে সাথে আইন -শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।

আত্মনিরাপত্তা :- নারীদের নিজেদের নিরাপদ রাখতে হবে নিজেদের চেষ্টাতেও। শুধু আইনের সাহায্যে বসে থাকলে চলবে না।রাস্তাঘাটে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হবে তাই নিজের কাছেই ছোট খাটো জিনিস রাখা যেতে পারে যেগুলা নিরাপত্তায় কাজে লাগে। মেয়ে বাচ্চাদের অপরিচিত কোন পুরুষের কোলে না দেয়া। একা খেলতে না দেওয়া।এসব ক্ষেত্রে মায়েদের সচেতন হতে হবে।

তাছাড়া নারীরা যেন নিজেদের আত্মরক্ষা করতে পারে তাই তাদের নিরাপত্তায় এখন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্যারাটে স্কুল,প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। এখানে নারীদের নিজেকে কিভাবে আত্মরক্ষা করতে হবে বিপদে পড়লে কিভাবে প্রতিপক্ষ কে জব্দ করতে হয়  সেগুলা শিখানো হয়।মার্শাল আর্ট, তায়কোয়ান্দো, কুংফু ইত্যাদি এখন শিখানো হচ্ছে সেসব প্রতিষ্ঠান এ। সেই প্রতিষ্ঠান গুলা বাংলাদেশের অনেক জায়গাতেই আছে। ঢাকার মধ্যে বেশ কয়েকটি সাড়া জাগানো স্কুল আছে যেখানে কুংফু, তায়কোয়ান্দো শিখানো হয়। চাইলে এখান থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া যায়। এগুলা হচ্ছে – 

 

১.জ্যাকি মার্শাল আর্ট একাডেমি

ঠিকানা:-১৬, শহীদ ফারুক রোড, পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

ফোন – ০১৭১৫৮৮৫৩৩৫

 

২.রয়েল তায়কোয়ান্দো স্কুল বাংলাদেশ

ঠিকানা :- রোড -৭/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা।

ফোন – ০১৭২৩২২৩৫২৯

 

৩. কো-ফাইট স্টুডিও

ঠিকানা:- রোড- ১১৩/এ, গুলশান, ঢাকা।

ফোন – ০১৯২৪৯৯৯০০০

এই প্রশিক্ষণগুলো মেয়েদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।এই প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।

 

এভাবে আমাদের সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।তাহলে আমাদের দেশে আর কোন অন্যায় হবেনা নারীদের সাথে। নারীরা পারবে সুন্দর,নিরাপদ জীবন যাপন করতে।

Sabrina Ibtesham Trisha

BY:

[email protected]

I'm a student. I love to write.Writing is my passion.I write only as a hobby.It makes me to feel free.

3 Comment

    • Sadia Afreen Neela -

    • January 7, 2020 at 00:22 am

    Well written miss trisha

    • Sadia -

    • January 7, 2020 at 01:58 am

    Well Written trisha

      • Trisha -

      • January 7, 2020 at 23:40 pm

      thx

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *