5e24b68939e79

শপিং এর কথা মনে পড়তেই চিন্তায় আসে অনলাইন শপিং। পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশর মানুষ ও এখন অনলাইন শপিং এ বেশি স্বাচ্ছন্দ্য  বোধ করে। কর্মজীবী থেকে শুরু করে গৃহীনি সবাই এখন অনলাইনে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। গৃ্হস্থালী উপকরণ থেকে শুরু করে পোশাক এমনকি গাছের চারা ও এখন অনলাইন থেকে কেনা যায়। 

আপনি ও কি অনলাইন থেকে শপিং করেন? আপনার কি মনে হয় ব্যস্ত জীবনে  শপিং এর জন্য অনলাইন শপিং অন্যতম সহজ সমাধান? আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য আমার আলোচনায় অংশ নিন কারন অনলাইন শপিং সম্পর্কিত সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করব।

এক জরিপে দেখা গেছে বর্তমানে অনলাইনে বছরে এক হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়। দৈনিক অনলাইনের অর্ডার ডেলিভারি দেওয়া হয় বিশ হাজার। ওয়েব আর ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন শপ আছে এগারো হাজার। তারমধ্যে দশ হাজারের বেশি হচ্ছে ফেসবুক ভিত্তিক এবং এক হাজার হচ্ছে ওয়েব ভিত্তিক অনলাইন শপ।

অনলাইন শপিং এর ধরন

বাংলাদেশে অনলাইন শপিং- এর দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

 

১। অনলাইন শপঃ  এটা এক ধরনের অনলাইন প্রতিষ্ঠান যেখানে পুরোটাই অনলাইন শপ। পণ্যের দাম এবং ছবি তাদের অনলাইন শপ – এ দেওয়া থাকে। ক্রেতারা তাদের কাংখিত পণ্য অনলাইনে পছন্দ হলে নাম, ঠিকানা উল্লেখ করে অর্ডার করে থাকেন। এবং অনলাইন শপ থেকে ক্রেতাদের নির্ধারিত ঠিকানায় তাদের কাংখিত পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। 

২। অনলাইন মার্কেটপ্লেসঃ এখানে ক্রেতা বিক্রেতা সক্রিয় থাকার মাধ্যমে পণ্য ক্রয় – বিক্রিয় করে থাকেন। অনলাইনে বিজ্ঞাপনের ভিত্তিতে আলোচনা হলে ও ক্র‍য় – বিক্রয় এবং লেনদেন উভয় পক্ষের উপস্থিতি তে  সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে লেনদেন এর ব্যাপারে অনলাইন মার্কেটপ্লেস কোন দায় বহন করে না। 

আবার প্রকৃতির দিক থেকে বাংলাদেশে দুই ধরনের অনলাইন শপ রয়েছে। 

   

 ১। ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্য কেনা বেচা করা। 

  ২। ফেইসবুকে পেইজ খুলে পণ্য ক্র‍য় – বিক্র‍য় করা। 

অনলাইন শপিং এ পণ্যের দাম এবং মানঃ 

অনলাইন শপিং এ বরাবর ই পণ্যের দাম তুলনামূলক ভাবে বেশী থাকে। অনেকে আবার পণ্যের মান নিয়ে ও প্রশ্ন তুলেছেন। যে ছবি দেখে ক্রেতারা অনলাইনে অর্ডার দিয়ে থাকেন তার সাথে হাতে পাওয়া পণ্যের কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এতে ক্রেতাদের কাছে পণ্যের মান নিয়ে  প্রশ্নের সম্মুক্ষীন হতে হয়। 

জনপ্রিয় অনলাইন শপিং সাইটঃ

বাংলাদেশ ও বিশ্বের জনপ্রিয় কিছু শপিং সাইটের নাম নিচে তুলে ধরা হলঃ

১। অ্যামাজন ডট কমঃ  এটি একটি অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় অনলাইন শপিং সাইট এর মধ্যে একটি। আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে সব কিছু ই এই সাইটে পাওয়া যায়। অনলাইন শপিং -এ  অন্যদের তুলনায় দক্ষতার সাথে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে অ্যামাজান ডটকম। 

২। ইবে ডট কমঃ  অসাধারণ সব ধারণা নিয়ে এই সাইট এখন অনেক জনপ্রিয়। এই সাইট এ বিক্রেতারা যে কোন পণ্য যত ইচ্ছে বিক্রি করতে পারে। এই সাইটে গেলে বুঝতে পারবেন আপনার দরকারী সব জিনিস ই এখানে রয়েছে।

৩। ওয়ালমার্ট ডট কমঃ হরেক রকমের পণ্যের সংগ্রহ শালা রয়েছে এই সাইটে। সচরাচর যে সব পণ্য আমরা সাধারণ দোকানে খুঁজে পাই না সে সব পণ্য আপনি এখানে পেতে পারেন।

৪। আলীবাবা ডট কমঃ বিশ্বের বহুল আলোচিত জনপ্রিয় অনলাইন শপিং পোর্টাল আলীবাবা ডট কম। সন্তোষজনক দামে এখান থেকে আপনি রাসায়নিক দ্রব্য থেকে শুরু করে গৃ্হস্থালী নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনতে পারেন। আপনার অর্ডারকৃত পণ্য যথা সময়ে আপনার ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে। 

৫। রকমারি ডট কম, বাংলাদেশঃ  বই প্রেমী মানুষদের ঘরে ঘরে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি এই সাইটের যাত্রা শুরু হয়। পাঠকরা এখন ঘরে বসেই পছন্দের বই কিনতে পারবেন।

৬। বিক্র‍য় ডট কম, বাংলাদেশঃ বাড়ি, গাড়ি থেকে শুরু করে কোরবানির পশু ক্র‍য় / বিক্রয় সব কিছুই আপনি এখানে কেনা বেচা করতে পারবেন। কেনা বেচার জন্য এখন বিক্র‍য় ডট কম – এর নাম সবার মুখে মুখে। 

৭। দারাজ ডট কম ডট বিডিঃ ইলেকট্রনিকস পণ্য থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবহারিক পণ্য পাওয়া যাবে জার্মানভিত্তিক কোম্পানির এই শপিং সাইট এ।

  

অনলাইন শপিং-এ  ফেসবুকের অবদানঃ 

অনলাইন শপিং এর জন্য ফেসবুক ভিত্তিক ই- কমার্স  সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকের মাধ্যমেই ক্রেতাগন অনলাইন থেকে সবচেয়ে বেশি কেনা কাটা করে থাকেন। মানুষ সারাদিন তার অধিকাংশ সময় ফেসবুকে ব্যয় করেন। আমাদের চাহিদাকৃত পণ্য মার্কেট থেকে খুঁজে বের করা এবং গুণগত মান যাচাই করা সময়সাপেক্ষ। ব্যস্ত জীবনে ঝামেলা এড়াতে সবাই এখন ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইনে শপিং করতে বেশি পছন্দ করেন।

 

অনলাইনে শপিং করা কি  ভাল না খারাপ?

অনলাইনে শপিং করতে চান? কিন্ত ভাবছেন অনলাইন থেকে কিনলে ভালো হবে না খারাপ হবে? প্রকৃতির নিয়মে  সব কিছুতেই ভালো খারাপ থাকবেই। তাই খারাপ দিক ও আছে তবে তা শতকারে হারে কম। তবে আপনি যদি অনলাইনে শপিং করে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন তবে

কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন, ভোক্তা অধিকার ফোরাম, আমাদের ইক্যাব এই তিনটির যে কোনটা তে আপনি অভিযোগ করতে পারবেন। 

অনলাইন শপ যখন আয়ের উৎসঃ  

অনলাইন শপ থেকেই যদি ঘরে বসেই আয় করতে পারেন কেমন হবে বলেন তো? অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই। ফেসবুকে অলস সময় না কাটিয়ে এখান থেকেই উপার্জন করতে পারেন। ফেসবুকে অনেক অনলাইন শপিং এর পেইজ আছে। সেখানে আপনি নিজে কেনা কাটা করার পাশাপাশি তাদের পণ্য বিক্রি করে দিয়ে ও আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ অনলাইন শপ থেকে কমিশনে পণ্য বিক্র‍য় করে দিয়ে আপনি ও ঘরে বসেই অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। 

অনলাইন শপিং আমাদের জীবনযাত্রা কে সহজ করে দিয়েছে। সময়ের অভাবে যখন আমরা মার্কেটে গিয়ে কেনা কাটা করতে পারছি না তখন ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সকল পণ্য হাতের নাগালে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে অনলাইন শপগুলো। ঘরে বসেই পুরো বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। কর্মব্যস্ত জীবনকে আরো বেগবান করতে অনলাইন শপিং এর ভুমিকা অতুলনীয়। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *